প্রচ্ছদ হেড লাইন সংসদের ১ম অধিবেশন কাল, কে হচ্ছেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার?

সংসদের ১ম অধিবেশন কাল, কে হচ্ছেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার?

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার বসতে যাচ্ছে। ওইদিন সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বেলা ১১ টায় অধিবেশন বসবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

বিগত সংসদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদ অধিবেশন কিভাবে শুরু হবে বা প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে বিগত সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোন ব্যক্তিকে দিয়ে অধিবেশন শুরু করাতে হবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এ দুটি পদে ক্ষমতাসীন দল থেকেই সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী এই পদটি নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সরকারি দলীয় হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বুধবার সংসদীয় দলের সভা শেষে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, জামায়াত এখনও ডেপুটি স্পিকার পদে কারও নাম প্রস্তাব করেনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে। বিএনপি বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। তাদেরকে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার করা হতে পারে।

বিএনপিতে আলোচনা চলছে- কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার। জানা গেছে, এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই।

তবে এই পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক তিনি। কূটনৈতিক অঙ্গনের বেশ পরিচিতি রয়েছে। সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত।

এরপর স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।

বিএনপি সূত্র বলছে, দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনায় স্পিকার পদে ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খান এখনও সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। মঈন খানের বাবা ড. আবদুল মোমেন খান জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।

অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।

অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও নির্বাচনি আইন বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকার কারণেও স্পিকার পদের আলোচনা তাকে এগিয়ে রাখছে। তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে স্পিকার পদে জন্য কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এম ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় এসেছে। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থায় কর্মকর্তা ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

এদিকে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম। তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে তারেক রহমান বেছে নেবেন তা নিশ্চিত নয়। মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায়ও তারা এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হয়নি।

বিজেপি সভাপতি পার্থ মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। ভোকাল পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে।

আর ব্যারিস্টার খোকন আইনজ্ঞ। তার সংবিধান আইন, সংসদ আইন সম্পর্কে বেশ জানাশোনা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না করলে সেটার কার্যকারিতা থাকবে না।