
যারা রাজনীতির নামে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের সতর্ক করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এক বছরের না। বহুদিনের। তোমাদের অনেকের তখন জন্ম হয় নাই। বাপ-মায়েরও বিয়ে হয় নাই। সুতরাং এই ক্যারিয়ারকে টোকা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করো না।
সরকারের বিরুদ্ধে যারা স্লোগান দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো এক জায়গায় দেখলাম সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান নিয়ে মাঠে নেমে গেছেন। কার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন? এই সরকার নির্বাচিত সরকার। আপনারা ভাববেন না যে এই সরকার আওয়ামী লীগের মতো রাতের ভোটের সরকার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি।
মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকার কিন্তু কোটি লোকের ভোটে নির্বাচিত সরকার। স্লোগান দিয়ে দাবির কথা বলতে পারেন। দাবি জানানোর একটা সিস্টেম আছে, সিস্টেমে আসেন। দয়া করে দেশের এই অবস্থায় সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করবেন না। কিছু কিছু লোক ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যেতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা আহ্বান জানাবো এই রমজান মাসে আপনারা দয়া করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না। রোজা মুখে আর যা-ই হোক, মিথ্যা কথাটা বলবেন না। অপপ্রচার করবেন না। উল্টাপাল্টা গালিগালাজ করবেন না।
তিনি বলেন, আচরণে নিজেদের বংশ ও মর্যাদা পরিচয় পাওয়া যায়। কে কোথা থেকে আসছেন? আপনাদের একজনের বাবা জামায়াতের রোকন, মা জামায়াতের রোকন। নিজের মাথায় টুপি, মুখে দাঁড়ি আছে। অর্থাৎ, সুন্নতের সব উপকরণ শরীরে আছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, যখন একটা মানুষ রোজা মুখে গালিগালাজ করে, তার রোজা কি থাকে? আমরা রোজা মুখে গালিগালাজও করি না, মিথ্যাও বলি না। আমরা কারও বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা কখনো করিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এক বছরের না, বহু বছরের। তোমাদের অনেকের তখন জন্ম হয় নাই। বাপ-মায়েরও বিয়ে হয় নাই। সুতরাং এই ক্যারিয়ারকে টোকা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করো না। নিজেদের ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করো। সত্যি কথা বলো।
তিনি বলেন, মিথ্যা কথা বলে, অপবাদ দিয়ে এই রোজার মাসে মানুষকে খাটো করার চেষ্টা করো না। তোমাদের মতো এতো সুন্নতি লেবাস তো আমার নাই। তারপরও আমার মুখের কথা কাজে লেগে যাবে। তখন কিন্তু এসব কিছুর জন্য দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বিএনপি সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু ও ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড আসার কথা জানিয়ে বলেন, আমি বলবো এগুলো আমাদের যে ৩১ দফা অঙ্গীকার ছিল তা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।
এসময় আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার নাঈমের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ।











































