
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ পুরুষ লিঙ্গ, স্ত্রী লিঙ্গ না কি উভয় লিঙ্গ, তা আমি জানি না।’ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের ইফতারে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমরা এসব উপস্থাপন করতে বাধ্য। কিন্তু সেই ১৩৩টি অধ্যাদেশের কোনটা কীভাবে গৃহীত হবে, তা জাতীয় সংসদের এখতিয়ার। আপনারা সবাই জানেন, এর বাইরে আরও একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। সেই আদেশটার নাম হলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ। এটি ম্যাস্কুলিন না ফেমিনিন না কি কমন জেন্ডার, আমি জানি না।’
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে ‘জবরদস্তিমূলক যাঁরা শপথ নিয়েছেন’, তা সংবিধানসম্মত কি না, তা সুপ্রিম কোর্টের দেখার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগে সংসদে আসেন, তারপর গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআগে সংসদে আসেন, তারপর গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগে আদেশ জারির এখতিয়ার ছিল, যার ভিত্তি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। ১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর অর্ডিন্যান্স জারির ক্ষমতা পেলেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর অর্ডারের জমানা শেষ। এখন কীভাবে রাষ্ট্রপতি অর্ডার জারি করলেন? আমরা তখন প্রশ্ন তুলেছিলাম। আমি বলেছিলাম, আমরা এই সমস্ত আরোপিত জবরদস্তি কোনো আদেশের বলে সার্বভৌম জাতীয় সংসদের কোনো ক্ষমতা খর্ব হতে দেব না। কারণ, জাতীয় সংসদের যে নির্বাচন, সেটি সাংবিধানিক নির্বাচন।’
গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে হলে আগে সংসদে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে গেলে আগে সংসদে যেতে হবে। সেখানে আলোচনা শেষে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সিদ্ধান্ত হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে শপথ নিতে হলে সেটিও হবে নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে দল মনে করে তাদের নির্বাচনে চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে, তাদের সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখাও নাজায়েজ। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। যাঁরা সমালোচনা করেছেন, তাঁরা নির্বাচনের পর স্বাক্ষর করেছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংবিধান মেনেই চলছে সরকার। গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে চাইলে আগে সংসদে যেতে হবে। জুলাই সনদ অস্বীকার করে না বিএনপি; সেটি আমরা বাস্তবায়ন করব। বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে। উপরাষ্ট্রপতির পদের ক্ষেত্রেও তা বাস্তবায়ন করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ছিল অধ্যাদেশ জারির সরকার। সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১০০টির বেশি অধ্যাদেশ বাধ্যগতভাবে উত্থাপিত হবে। আগে সংসদে আসেন, তারপর গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’











































