
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা জোরদার করেছে সরকার। সোমবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদীর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিশেষ ছাড় দেবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভুলবশত কোনো হামলা এড়াতে বাংলাদেশি জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগেই তাদের বিস্তারিত তথ্য ইরানকে জানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এপ্রিল মাসের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে আরও চারটি জাহাজে ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক ৯ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে; নতুন এই পাঁচটি চালানের ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে আগামী ১৬ দিনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ পাশে পাচ্ছে দুই প্রতিবেশী দেশ চীন ও ভারতকে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বার্ষিক চুক্তির অতিরিক্ত আরও ৬০ হাজার টন ডিজেল আমদানির সুযোগ রয়েছে, যা বর্তমান জরুরি অবস্থায় বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিপিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ২৯ হাজার টন ডিজেল মজুত আছে যা আগামী ১৪ দিনের জন্য পর্যাপ্ত। এছাড়া অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের মজুতও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ৭ মার্চের একটি বড় চালান বাতিল হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে কেউ যেন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিশেষ করে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিয়ে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।













































