প্রচ্ছদ জাতীয় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী

১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন দেশের বিভিন্ন দলের আলোচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থীরা। নির্বাচন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ৪৯টি আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজার ভোটের কম। এসব আসনে ফলাফল অনেকটাই অনিশ্চিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত সামান্য ব্যবধানেই নির্ধারিত হয়েছে বিজয়ী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি, প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব এবং পরিচিত মুখ থাকা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে। এতে ভোটারদের নতুন বার্তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগারের কাছে ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। ওই আসনে আলী আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট, আর গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। সেখানে মোট ভোট পড়েছে ৭৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ঢাকা-১০ আসনে বর্তমান সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ৩ হাজার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জসীম উদ্দীন সরকার পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ৪৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী এমএ কাইয়ুমকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট, আর কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।

পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী মো. সারজিস আলম ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পেয়েও জয়ী হতে পারেননি। সেখানে বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৫ হাজার ৫৯২ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে পরাজিত হন। মঞ্জু পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট এবং হেলাল পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নির্বাচনের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, ১০ হাজার বা তার কম ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন রংপুর-৪, রংপুর-৬, কুড়িগ্রাম-২, জয়পুরহাট-১, নওগাঁ-২, রাজশাহী-১, পাবনা-৩, পাবনা-৪, কুষ্টিয়া-৪, বাগেরহাট-১, ময়মনসিংহ-১, নেত্রকোনা-৫, ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-১৬, চাঁদপুর-৪ এবং রাজশাহী-৪ আসনে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ১৮ জন প্রার্থী ১০ হাজার বা তার কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, সিরাজগঞ্জ-১, খুলনা-৩, বরগুনা-২, ঝালকাঠী-১, ময়মনসিংহ-৪, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-১৭, সিলেট-৬, কুমিল্লা-৫ এবং কক্সবাজার-৪।

এ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও কয়েকটি আসনে ১০ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, ময়মনসিংহ-৩ ও ১০, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩, গোপালগঞ্জ-২, সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ এবং চট্টগ্রাম-১৪।

বিশ্লেষকদের মতে, এতগুলো আসনে অল্প ভোটের ব্যবধান দেখাচ্ছে যে ভোটের লড়াই ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত ছিল।

সূত্র : জনকণ্ঠ