
নরসিংদীর মাধবদীতে সৎ বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’র রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মেয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়েই তাকে হত্যা করেন সৎ বাবা আশরাফ আলী।
শনিবার (০৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক।
তিনি বলেন, কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সূত্র ধরে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। অপরদিকে আসামি হজরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার হত্যাকাণ্ডের ১০/১২ দিন আগে দলবদ্ধভাবে কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
সৎ বাবা আশরাফ আলী আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে বলেন, আশরাফ আলী (৪৫) তার সৎ মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রওনা দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি সরিষা ক্ষেতে আমেনা সামনের দিকে হাঁটছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে আশরাফ ওড়না দিয়ে মেয়ের গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ওই ওড়না দিয়েই কিশোরীর দুহাত বেঁধে রাখে। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে বাড়ি এসে পরিবারকে জানায়, নূরা ও তার লোকজন আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
নিখোঁজ নারীর মরদেহ মিলল হাসপাতালের লিফটের গর্তে
জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেয়ের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয়-প্রতিপন্ন হন। এ কারণে তাকে হত্যা করেছেন।
কিশোরীর মায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র ওই কিশোরীকে তার সৎ বাবা আশরাফ আলীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি আলোচনা তৈরি করলে পুলিশের ডিআইজি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
কিশোরীকে ১৫ দিন আগে ‘ধর্ষণ’ করা হয়েছিল বলে দাবি স্বজনদের। মেয়েটি তার মায়ের প্রথম পক্ষের সন্তান। ওই কিশোরী মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার সৎ বাবার বাড়ি বরিশালে। তারা শ্রমিক পরিবার।
এই মামলায় পুলিশ মোট ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালত তাদের প্রত্যেকের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।












































