প্রচ্ছদ জাতীয় তিন সিটিতে জামায়াতের প্রার্থিতার আলোচনায় যারা

তিন সিটিতে জামায়াতের প্রার্থিতার আলোচনায় যারা

ঈদুল ফিতরের পরপরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্যে আছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাঠ গোছাতে চায়। এরই মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাদের এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা। একই সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা দিতে বলা হয়েছে।

জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই তিন সিটিতে আলোচনায় আছেন একাধিক নেতা, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নেমে পড়েছেন। একাধিক নেতাকে নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। এখন কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

ঢাকা উত্তর সিটিতে আলোচনায় আছেন যারা, তাদের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার ডা. এসএম খালিদুজ্জামান, ঢাকা উত্তর মহানগরীর আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। তাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে জনগণের কাছে যাওয়া শুরু করেছেন।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আলোচনায় আছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নেতা অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ড. আব্দুল মান্নান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

চট্টগ্রাম সিটিতে আলোচনায় আছেন সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আ ম ম মশিউর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও অধ্যক্ষ নুরুল আমিন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের কালবেলাকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে মেয়র বা অন্যান্য পদে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাব অধস্তন (তৃণমূল) সংগঠন থেকে আসবে। আমরা চূড়ান্ত ঘোষণা দেব কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা অধস্তন শাখাগুলোকে পরামর্শ দিয়েছি। তাদের বলেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বসে আলোচনার করে প্রার্থীদের একটা প্যানেল যাতে দেওয়া হয়। সেই প্যালেন পাওয়ার পর আমাদের ফোরামে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করব।’

এদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলো সম্মিলিতভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়বে কি না, সেটা নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে। যদিও দলগুলো বলছে, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এককভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে আলোচনার টেবিলের চূড়ান্ত ‘নেগোসিয়েশনের’ বিষয়ে জানতে আরও কিছু সময় আপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: কালবেলা