প্রচ্ছদ জাতীয় তেলের দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় দুঃসংবাদ!

তেলের দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় দুঃসংবাদ!

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ভয়াবহ উল্লম্ফন ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলার পর থেকে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের দিন থেকেই বাজারের পারদ চড়তে শুরু করে। গত শুক্রবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলারে বিক্রি হলেও দিন শেষে তা একলাফে ৮২ ডলারে পৌঁছায়। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ব্র্যান্ডের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা এই জলপথটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান ধমনী, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা রাইস্টাড এনার্জি সতর্ক করে বলেছে, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক তেলের সরবরাহ ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগেই তেলের বাজারে ১০ শতাংশ দাম বেড়েছিল, যা বর্তমানে ১৩ শতাংশে ঠেকেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট—উভয় ব্র্যান্ডের তেলের দামই এখন রেকর্ড উচ্চতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। ইরান এই পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানি ক্ষমতা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প রুট ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ তেলের ঘাটতি দেখা দেবে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, যদি এই সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত না হয় এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হয়, তবে তেলের আন্তর্জাতিক বাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।