
১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে। এই অধিবেশনে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সভাপতিমন্ডলীও নির্ধারণ করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
সাধারণত আগের সংসদের স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন হয়। কিন্তু দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন পলাতক ও তিনি পদত্যাগ করেছেন। আর ডেপুটি স্পিকার একাধিক মামলায় কারাবন্দি। এ কারণে সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
১২ মার্চ বেলা ১১টায় এ অধিবেশন বসবে। পাঁচবারের সংসদ-সদস্য ড. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে নির্বাচিত হবে সংসদের নতুন স্পিকার। এছাড়াও উত্থাপন করা হবে বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো। এর আগে পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন এবং শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি দল এবং বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। এবারও সেই রীতি অনুসরণ করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এক নজরে খন্দকার মোশাররফ
প্রবীণ রাজনীতিক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, গবেষক, ভূ-বিজ্ঞানী, লেখক ও কলামিস্ট। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনে তার ঝুলিতে অর্জনের ভান্ডার বিশাল। তিন মেয়াদে মন্ত্রী এবং পাঁচবারের সংসদ-সদস্য থাকাকালে নির্বাচনি এলাকায় দাউদকান্দি পৌরসভা ও নতুন উপজেলা তিতাস প্রতিষ্ঠা, মেঘনা উপজেলা বাস্তবায়নসহ যুগান্তকারী উন্নয়ন করেছেন তিনি।
এছাড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে স্বর্ণপদকসহ প্রচুর সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ড. মোশাররফ ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ রাজনৈতিক মামলায় ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৭, ২০১২ ও ২০১৪ সালে গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৫ বছর কারাভোগ করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭৯ সালে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং দলের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত এবং মন্ত্রী হন। ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ড. মোশাররফ বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।












































