
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় কি তবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল! যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার দম্ভ তেহরান সব সময় করে এসেছে, তা এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে গেল-মাত্র এক মিনিটের নিখুঁত অপারেশনে। তবে এই হামলার পেছনে শুধু সিআইএ বা মোসাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে ‘ঘরের শত্রু’। ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের শত্রু ‘বিভীষণ’ই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান সম্পর্কে শত্রুকে তথ্য দিয়েছিল। নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য আর আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সমন্বয়ে চালানো এই অপারেশন প্রমাণ করে দিল, বাইরের শত্রুর চেয়েও ঘরের ভেতরের অদৃশ্য শত্রুরাই এখন ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। খবর বিবিসি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় খামেনির পূর্বনির্ধারিত সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি সরিয়ে আনা হয়েছিল সকালে। অত্যন্ত গোপনীয় এই পরিবর্তনের খবরটি শুধু হাতেগোনা কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার জানা ছিল। কিন্তু সেই গোপনীয়তাও রক্ষা পায়নি; শত্রু পক্ষ আগেভাগেই জেনে যায় সময়ের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তন। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের অতি-সুরক্ষিত বলয়ের ভেতরেই ঘাপটি মেরে থাকা কোনো তথ্য পাচারকারী সরাসরি মোসাদ বা সিআইএর কাছে এই মুহূর্তের খবর পৌঁছে দিয়েছিল। ফলে মাত্র ৬০ সেকেন্ডের ঝড়ো অভিযানে তছনছ হয়ে যায় সব-প্রাণ হারালেন খামেনি, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য, রাষ্ট্রের শীর্ষ একাধিক কর্মকর্তা এবং ৪০ জন সামরিক কমান্ডার।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ খামেনির ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালাচ্ছিল। কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও বৈঠকের ধরন শনাক্ত করে আসছিল সংস্থাটি। খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন-এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আকাশ ও নৌ-অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, বিস্ময় সৃষ্টির জন্য প্রথমে খামেনিকে আঘাত করা প্রয়োজন, আর এমন সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। কারণ, সুযোগ পেলে ইরানি নেতা আত্মগোপনে চলে যাবেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারা আরও বলেন, ওয়াশিংটনে মধ্যরাতের পরপরই (ইরানে তখন দিন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেন। জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার দুই দিন পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। ইসরাইল ভোর প্রায় ৬টায় অভিযান শুরু করে, দীর্ঘপাল্লার অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে।
যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরান সময় সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এক ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, সকালের হামলাটি তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে চালানো হয়েছে, যার একটি স্থানে ইরানের রাজনৈতিক-নিরাপত্তা স্তরের শীর্ষ ব্যক্তিরা জড়ো হয়েছিলেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল কৌশলগতভাবে ‘চমক’ দিতে সক্ষম হয়। অভিযানের শুরুতেই তেহরানে খামেনির উচ্চ-নিরাপত্তা কম্পাউন্ডে আঘাত হানা হয় এবং স্যাটেলাইট চিত্রে কম্পাউন্ডটি ধ্বংসের প্রমাণ মেলে।
রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলে তোলপাড় শুরু হয় ইরানসহ বিশ্বজুড়ে।











































