প্রচ্ছদ বিনোদন চিঠির যুগের হারানো প্রেম নিয়ে রূপালী পর্দায় ‘মামনের চিঠি’

চিঠির যুগের হারানো প্রেম নিয়ে রূপালী পর্দায় ‘মামনের চিঠি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানের দ্রুতগতির ডিজিটাল যোগাযোগ আর স্মার্টফোনের ভিড়ে হারিয়ে গেছে হাতে লেখা চিঠির সেই সোনালী দিনগুলো। সেই হারানো দিনের আবেগ, চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা আর অপেক্ষার নস্টালজিয়াকে রূপালী পর্দায় ফিরিয়ে এনেছে নতুন চলচ্চিত্র ‘মামনের চিঠি’। সিদ্ধার্থ সিনহা ও গৌতমী মিশ্রার যৌথ পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটি দর্শকদের নিয়ে যাবে সেই সময়ে, যখন একটি চিঠির জন্য দিনের পর দিন পথ চেয়ে বসে থাকত প্রেমিক হৃদয়।

গল্পের প্রেক্ষাপট: ‘মামনের চিঠি’র মূল উপজীব্য হলো শংকর ও মামুন নামের দুই তরুণ-তরুণীর এক অনন্য প্রেমের উপাখ্যান। মামুন (গৌতমী মিশ্রা) একজন ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও সেকেলে চিঠিপত্রের আদান-প্রদানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তার এই শখের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে শংকর (সিদ্ধার্থ সিনহা) আধুনিক প্রযুক্তি বর্জন করে চিঠির মাধ্যমেই তার মনের কথা জানাতে শুরু করে। কিন্তু তাদের এই সাজানো স্বপ্নে বিঘ্ন ঘটায় খলচরিত্র বিপ্লব ঘোষ। একটি মাত্র ভুল চিঠি কীভাবে তাদের জীবনের গতিপথ এবং ভাগ্যকে আমূল বদলে দেয়, তা-ই এই সিনেমার মূল নাটকীয়তা।

সংগীত ও আবহ: চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রাণ হলো এর সংগীত। গুয়াহাটির প্রখ্যাত সুরকার রূপম নাথ সিনেমাটির আবহ সংগীত ও গানের সুর করেছেন। তোশিবা বেগম ও শোভন দালাপতির গাওয়া ‘প্রেমেরহাওয়া’ এবং পুরভ সিনহার ‘তুই ছাড়া’ গানগুলো ইতিমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। গানের কথা ও সুরে প্রেম, বিরহ এবং অন্তহীন প্রতীক্ষার আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা সিনেমার গল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নির্মাণ ও কারিগরি দিক: সিনেমাটির চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে। বিশেষ করে আসামের প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বাংলাদেশের সিলেটের ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাপট সিনেমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। প্রধান চিত্রগ্রাহক পরাগ জ্যোতি দাসের সাথে বাংলাদেশের অংশ সামলেছেন আপন আহমেদ রানা ও জয়দীপ। সম্পাদনায় ছিলেন জিত চৌধুরী এবং ভিএফএক্স-এর কাজ করেছেন দিপাঙ্কর সাহারিয়া।

মুক্তি ও জনপ্রিয়তা: ২০২৫ সালের নভেম্বরে ত্রিপুরার কৈলাসহরে প্রিমিয়ারের মাধ্যমে সিনেমাটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আসামের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এটি প্রদর্শিত হয়। ডিজিটাল পরিবেশক সংস্থা ‘টিউন সোল ওশান’ (Tune Soul Ocean)-এর মাধ্যমে সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পরিচালক সিদ্ধার্থ সিনহা জানান, “এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি একটি হারানো সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।”

চিঠির যুগের সেই মায়া আর আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘মামনের চিঠি’ একটি সার্থক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।