প্রচ্ছদ রাজনীতি ‘বিদ্রোহী’তে কপাল পুড়ল বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর

‘বিদ্রোহী’তে কপাল পুড়ল বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনার পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। দুটিতে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকলেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কপাল পুড়েছে হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন জামায়াত প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘দুটি আসনে আমাদের দলীয় প্রার্থীরা খুবই অল্প ভোটে পরাজিত হয়েছেন। দল করেও যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের কারণেই দলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটেছে বলে আপাতত মনে হচ্ছে। এর বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোনো কারসাজি আছে কি না, সেটিও আমরা অনুসন্ধান করছি।’

পাবনা-১: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন সীমানা নির্ধারণের কারণে বেড়া উপজেলা পুরোপুরি পাবনা-২ আসনে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ আসনটি শুধু সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটি জামাতের ঘাঁটি হলেও বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দলটি তাদের আসন ধরে রেখেছিল। এবার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমান মোমেন জামায়াতের প্রার্থী হয়েছিলেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুর রহমান ১ লাখ ৪ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভোটের ব্যবধান ২৫ হাজার ৭২৯। এ আসনে ভোট পড়েছে ৭০ দশমিক ৬২ শতাংশ।

পাবনা-২: সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি আগে থেকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে আসছিল। এখানে জামায়াতের তৎপরতা খুব একটা দেখা যায়নি। এবার বেড়ার অংশটা কেটে এ আসনে যুক্ত করার কারণে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। বিএনপির এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব পেয়েছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৪০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হোসাব উদ্দিন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ২৪২ ভোট। ব্যবধান ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৬৪ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ৬২ শতাংশ।

পাবনা-৩: চাটমোহর, ভাঙ্গুরা ও ফরিদপুর উপজেলার এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনকে। তার পৈতৃক নিবাস সুজানগর হওয়ায় শুরু থেকেই তাকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একাংশ। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম হলেও তুহিনেই আস্থা রাখে বিএনপি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন দলটির দুই বারের সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। এতেই কপাল পোড়ে তুহিনের। আসনটিতে বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার কথা থাকলেও ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাগ বসানোয় পিছিয়ে পড়েন তুহিন। এ আসনে জামায়াতের মুহাম্মাদ আলী আছগার ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫টি। আর ধানের শীষ প্রতীকে হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩ হাজার ২৬৯। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ৩৮ হাজার ২৭ ভোট পান। স্বতন্ত্র প্রার্থী বড় সংখ্যার এই ভোট কেটে নেওয়ায় নিশ্চিত এ আসনটি হাতছাড়া হয় বিএনপির। এ আসনে ভোট পড়েছে ৭০ দশমিক ২২ শতাংশ।

পাবনা-৪: বিএনপির একই হাল ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসনেও। আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয় আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে। তাতে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ দলীয় একাংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে তারা। সবশেষ মোটরসাইকেল প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হন জাকারিয়া পিন্টু। এখানেও দলীয় ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় টান পড়ে বিএনপি প্রার্থীর ভোটে। এ সুযোগে মাত্র ৩ হাজার ৮০১ ভোটে বিজয়ী হন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল। আবু তালেব মণ্ডল পান ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীকে হাবিবুর রহমান হাবিব পান ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত জাকারিয়া পিন্টু ২৭ হাজার ৯৭ পেয়ে জামায়াত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করেন। এ আসনে ভোট পড়েছে ৭০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

পাবনা-৫: সদরের এ আসনটি জোটের কারণে বিগত সময়ে জামায়াতকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে আসনটি পরিচিত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী করা হয় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সরকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে। এখানে দলীয় সমর্থন এবং ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শিমুল বিশ্বাস ১৬ হাজার ৯৩১ ভোটে জয়লাভ করেন। শিমুল বিশ্বাস পান ১ লাখ ৮১ হাজার ৯২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইকবাল হোসাইন পান ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৪ ভোট।

এখানে ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।