প্রচ্ছদ হেড লাইন রাসিক প্রশাসকের দৌড়ে বিএনপির ৫ নেতা, চলছে লবিং-তদবির

রাসিক প্রশাসকের দৌড়ে বিএনপির ৫ নেতা, চলছে লবিং-তদবির

দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ৬টিতে ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। এসব পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই বিএনপির নেতা। তবে বাকি ৬টি সিটি করপোরেশনে এখনো প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ তালিকায় রয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)।

১২ ফেব্রুয়ারি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই রাজশাহীতে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শুরু হয় প্রচারণা ও নীতিনির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের তৎপরতা।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ছয় সিটি করপোরেশনে ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগের পর রাজশাহীর চিত্র বদলে যায়। সম্ভাব্য প্রার্থীরা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে এখন রাজশাহীর পাঁচ বিএনপি নেতা কেন্দ্রে জোর লবিং করছেন। কেউ অবস্থান করছেন ঢাকায়, আবার কেউ রাজশাহী থেকেই দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

প্রশাসক পদে আগ্রহী নেতারা হলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।

অভিজ্ঞতার পাল্লায় বুলবুল

মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন। সে নির্বাচনে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে পরাজিত হন।

পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০১৩ সালে তিনি লিটনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রত্যাখ্যান করেন।

রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু ছাত্রদল দিয়ে। ১৯৯১ সালে রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে মহানগর যুবদলের সভাপতি, ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

২০১৩ সালে পাঁচ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, আমার এখানে কিছু বলার নেই। কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দিলে অভিজ্ঞতার আলোকে স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করব।

আনুগত্য ও ত্যাগের স্বীকৃতি চান মামুন

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনও প্রশাসক পদে আগ্রহী। তিনি মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মামুন বলেন, দলের প্রতি আমার আনুগত্য, ত্যাগ আর পরিশ্রম বিবেচনায় নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহল যোগ্য মনে করলে আমি দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।

দায়িত্বে প্রস্তুত রানা

মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। পরে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।

তিনি বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় রাজশাহী মহানগরীর মানুষ আমাকে চাইলে আমি দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক।

সেবার সুযোগ চান রিটন

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনও প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী। তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

রিটন বলেন, আমিও রাজশাহী মহানগরবাসীর সেবা করতে চাই। বিএনপি হাইকমান্ড আমাকে যোগ্য মনে করলে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেবে।

বুলবুলের পক্ষে সুইট, নিজেও আগ্রহী

মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি রাজশাহী কলেজ ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

সুইট বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মহানগরবাসীর বিপুল ভোটে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হলেও তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। আমার ইচ্ছা, সবকিছু ঠিক থাকলে দল তাকেই সম্মানিত করুক। এরপর দল যদি আমাদের মতো তরুণদের নিয়ে ভাবে, তাহলেও আমি দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী।