
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এর উপস্থিতিতে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সাথে বিএনপির কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২১ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপি’র একটি অফিস, বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি গাড়ি।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী চলে এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। আহতদের মধ্যে রয়েছে, বিএনপি কর্মী আকবর, হেলাল, রিয়াদ, জাহের, হক সাহেব, লুবনা আক্তার’সহ উভয় পক্ষের অন্তত ২১জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে আসেন নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। এসময় তিনি এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করেন। পরে প্রকল্পে মানুষের উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেন মাসউদ। বক্তব্য শেষে ফেরার পথে প্রকল্প বাজারে বিএনপির লোকজনের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় বিএনপির অফিস, দোকানপাট ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে সড়কে বসে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন মাসউদ।
এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রকল্প বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে আসার পথে স্থানীয় বেলাল ডাকাতের নেতৃত্বে তার গাড়িবহরের পিছন থেকে হামলা করা হয়েছে। বেলাল ডাকাত আগে আওয়ামী লীগ ছিলো এখন সে বিএনপি করে। এ সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রকল্পে মাউদ উৎশৃংখল বক্তব্য প্রদান করে। তার এমন বক্তব্যের পর তার দলের নেতাকর্মীরা বাজারে উঠে প্রথমে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় হান্নানের লোকজন স্থানীয়দের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এগিয়ে গিয়ে সেটি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে হামলার শিকার হন হেলাল নামের আমাদের এক কর্মী। পরে হান্নানের লোকজনের দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীসহ অন্তত ১২ জন আহত করে। এখনও হান্নান নিজে বাজারের পাশে অবস্থান নিয়ে নিজে নেতৃত্ব দিয়ে তার অস্ত্রধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আরও উত্ত্যক্ত করে তুলছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।










































