প্রচ্ছদ জাতীয় আরেকটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত, নেতৃত্বে যিনি

আরেকটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত, নেতৃত্বে যিনি

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ বা আপ বাংলাদেশ নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর। তরুণদের এই প্ল্যাটফর্ম ঘিরে আশা দেখছিলেন অনেকে। প্ল্যাটফর্মের নেতারাও জানিয়েছিলেন এটি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করবে। কিন্তু মাত্র ৯ মাস না পেরোতে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল।

রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করা না করা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধ। দলটির একাধিক সূত্র বলছে, এ অবস্থায় শিগগিরই আপ বাংলাদেশ ভেঙে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। আর সেটি হলে এই প্ল্যাটফর্মের কেউ কেউ নতুন দলে না গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন।

জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে ফিজিবিলিটি টেস্ট বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ১০ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে রয়েছেন নাঈম আহমাদ। এ ছাড়া চূড়ান্ত করা হয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। এর মধ্যে রয়েছে– গণভোটের রায় কার্যকরে জনমত তৈরি, জুলাই গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবিরোধী গণ-আন্দোলন, পুলিশ সংস্কার ও মেয়াদ শেষ হওয়া সাপেক্ষে সব কমিটি বিলুপ্ত করা।

সূত্র জানায়, আপ বাংলাদেশ ভেঙে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মুহূর্তে এমন কিছু চান না জুনায়েদ, হিজবুল্লাহ, ইরা, রিফাতসহ ৮০ শতাংশেরও বেশি নেতাকর্মী। গুটিকয়েক লোক নিয়ে দল গঠন করতে চাইছেন নাঈম। এ জন্য সর্বশেষ সাধারণ সভায় নিজেদের ভেতরে ফিজিবিলিটি টেস্ট করতে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার প্রতিবেদন এখনো হাতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের একজন।

জানা যায়, আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত, মুখপাত্র শাহরিন ইরাসহ বেশ কয়েকজন নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠকের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে ওই সূত্রের দাবি। এ নিয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও জুনায়েদকে পাওয়া যায়নি।

প্ল্যাটফর্মের প্রধান নেতারা এনসিপিতে যাচ্ছেন–এমন গুঞ্জন নিয়ে কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখনো নিশ্চিত নই। তেমন কথাবার্তাও হয়নি। সুযোগ থাকলে আমরা যেতে পারি। তবে আপ বাংলাদেশ ভেঙে নতুন দল ঘোষণা করা হলে আমাদের কিছু সদস্য এনসিপিতে চলে যেতে পারেন। অর্থাৎ সক্রিয়রা এই প্ল্যাটফর্মে আর থাকতে চাইবেন না। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মের নামে যেহেতু রাজনৈতিক দল আসছে না, সেহেতু এখানেই সবাই থাকবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আপ বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপ বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মে থাকতে চাই না, ব্যাপারটা তেমন না। রাজনৈতিক দল গঠনের আকাঙ্ক্ষা শুরু থেকেই ছিল। সেভাবেই আমাদের প্ল্যাটফর্মটি করা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দল গঠনের একটি সম্ভাব্য ডেডলাইন ছিল। নির্বাচনের পর হওয়া সাধারণ সভায়ও এ নিয়ে কথা হয়। একই সঙ্গে আমাকে প্রধান করে রাজনৈতিক দল গঠনের ফিজিবিলিটি অ্যানালাইসিস কমিটি দেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরে কাজ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা না দিলেও ফিডব্যাক ভালো। আমরা ইতিবাচক কিছু দিতে পারব ইনশাআল্লাহ। আশা করি, শিগগিরই একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’

নতুন দলের নাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি কোনো একটি নামই থাকবে। হতে পারে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি), যা এখন রয়েছে ইউপিবি। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্থলে পার্টি হয়ে যেতে পারে। এমন আরো কিছু নামের প্রস্তাব আসছে। সব মিলিয়ে কাছাকাছি কোনো একটি নাম ব্যবহার করব ‘

নেতৃত্বের কাতারে কারা থাকবেন–জানতে চাইলে এ নেতা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আপ বাংলাদেশের বর্তমান আহ্বায়ক জুনায়েদের থাকার সম্ভাবনা কম। অন্য কোনো নেতৃত্বই আসার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামো এখনো সাজানো হয়নি। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না কারা নেতৃত্বে আসছে। দু-এক দিনের মধ্যে আমরা প্রতিবেদন জমা দেব। যেহেতু প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রক্রিয়াগত ব্যাপার রয়েছে, সেহেতু দল গঠনের আগ পর্যন্ত এই নেতৃত্বই আমাদের মানতে হবে। অতএব তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই আমরা একটা তারিখ নির্ধারণ করব। আশা করছি, এ সপ্তাহ বা আগামী মাসের শুরুর দিকে ঘোষণা আসবে।’