প্রচ্ছদ জাতীয় চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনার চালককে পিটিয়ে হ’ত্যা

চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনার চালককে পিটিয়ে হ’ত্যা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি- চিটাগাং রোড সড়কে দৈনিক শতাধিক লেগুনা চলাচল করে। প্রতি লেগুনা থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ওয়ারি ট্রাফিক পুলিশের নামে মাসিক ১ হাজার টাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের নামে ৫’শ টাকা ও লাইন ম্যানের জন্য ৪০ টাকা হারে আদায় করা হয়। এ চাঁদাবাজির আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ি ও চিটাগাং রোড লেগুনা স্ট্যান্ডে বিরোধ চলে আসছে।

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার দুপুর বিকাল পৌনে ৩টার সময় যাত্রাবাড়ি মাছের আড়ত সংলগ্ন সুফিয়া গার্মেন্টের পাশে খায়রুল নামের এক চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চালকরা যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, হত্যাকান্ডটি চাঁদার জন্য নয়, সিটে যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিহত খায়রুলের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাছিকাটা কান্দি গ্রামে। বর্তমানে মাতুয়াইল মধ্যপাড়া আমিনুল ইসলাম হেন্দির বাড়িতে ৩য় তলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোয়াল্লেম সর্দার বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৮জনসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে শনিবার যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন।

খায়রুল হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লেগুনা চলাচল বন্ধ রাখেন চালকরা।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ি লেগুনায় যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে নুরে আলম ইসলাম ওরফে খায়রুল (৩৫) নামের এক লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু যুগান্তরকে বলেন, নিহত খায়রুল আলমের সঙ্গে হৃদয় নামের অন্য এক চালকের সঙ্গে বিরোধের সুত্রপাত। শুক্রবার খায়রুলকে মারধরের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

ওসি জানান, এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল লেগুনা চালক এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২ ঘটিকার সময়ে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোড লেগুনা স্ট্যান্ডে সিরিয়ালের বাইরে হৃদয় নামের লেগুনা চালক জোড় করে তার লেগুনায় যাত্রী উঠাতে থাকে। এসময় লেগুনা চালক খায়রুল আপত্তি জানালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় খায়রুলকে হুমকি দিয়ে তুই যাত্রাবাড়ি আয় বলে লেগুনা চালিয়ে যাত্রাবাড়ি চলে যায়।

দুপুর পৌনে ৩ টার সময় যাত্রাবাড়ির সুফিয়া গার্মেন্ট সংলগ্ন লেগুনা স্ট্যান্ডে খায়রুল পৌঁছামাত্র হৃদয়ের নেতৃত্বে অন্যান্য লেগুনা চালক ইমরান, শাকিল, রায়হান, সোহানসহ ১০/১২ জন খায়রুলকে বেদমভাবে পিটিয়ে জখম করে। খায়রুলের অবস্থার অবনতি দেখে হামলাকারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত খায়রুলের ছোট বোন আছিয়া আক্তার বলেন,আমার ভাই আগে মাছের ফিডের ব্যবসা করত। দেড় বছর বেকার থাকার পর দেড়মাস ধরে ভাড়ায় লেগুনা চালাত। আমার একমাত্র ভাইয়ের উপর ৭/৮ জনের পরিবারের সদসের ভরন পোষন পরিচালনা করা হতো। তার আফোয়ানা আলম নুর নামের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের সঠিক বিচারের দাবি জানাই।