প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক এবার বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলো ভারত

এবার বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলো ভারত

জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের অবনতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে টানাপোড়েন আরও বাড়ে। তবে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের আগমনের পর ঢাকা–নয়া দিল্লি সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০ ফেব্রুয়ারির সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় নয়া দিল্লি। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

তিনি জানান, সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। একইসঙ্গে ভারতের সংসদের স্পিকার ওম বিরলা পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক শক্তিশালী হলে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন আরও টেকসই হবে।

নয়া দিল্লি জানায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন, নদীর পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব—বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও ইন্দো-প্যাসিফিক প্রেক্ষাপটে—আরও বেড়েছে। ফলে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অব্যাহত থাকবে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের পুনর্ব্যক্ত অঙ্গীকার ইতিবাচক সংকেত দিলেও ঘোষণার বাস্তবায়নই হবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রকৃত পরীক্ষা