
শপথের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেছে নিয়েছেন হিমালয়ের দেশ ভুটানকে।
ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে প্রথম সফর কোথায় হবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি বা ইসলামাবাদের যেকোনো একটিকে বেছে নিলে শুরুতেই আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত। সেই প্রেক্ষাপটে ভুটানকে নির্বাচনকে ‘নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশ ছিল ভুটান। সদ্য সমাপ্ত শপথ অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাসো শেরিং তোবগে উপস্থিত ছিলেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান জানান।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সার্কভুক্ত দেশ দিয়ে সফর শুরুর এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেয় এবং “ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি”র ইঙ্গিত বহন করে।
দেশীয় নীতিতেও কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা বাতিল এবং মন্ত্রীদের ব্যয়সংকোচনের নির্দেশ দিয়েছেন—যা স্বচ্ছতা ও মিতব্যয়িতার বার্তা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রথম সফরে ভুটানকে বেছে নেওয়া একদিকে কূটনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত, অন্যদিকে আঞ্চলিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।









































