প্রচ্ছদ জাতীয় ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে বায়ুদূষণ। প্রতিদিনই বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন মেগাসিটি। সেই তালিকায় সামনের সারিতেই রয়েছে ঢাকা। বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজধানীর বায়ুমান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। মাঝে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দূষণ পরিস্থিতি।

এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘বিপর্যয়কর’ অবস্থায় পৌঁছায় ঢাকার বাতাস। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করা হয় ৩২২, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

একই সময়ে বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার ওপরে ছিল কেবল লাহোর। পাকিস্তানের এই শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ৪০৪, যা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কলকাতার স্কোর ছিল ২১২ এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দিল্লির স্কোর ২০৮। এছাড়া পঞ্চম অবস্থানে থাকা দোহার একিউআই স্কোর ছিল ১৬৯। স্কোর অনুযায়ী এসব শহরের বায়ুমান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাতাসের তাৎক্ষণিক মান নির্ধারণ করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান IQAir। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুমান ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে চিহ্নিত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।

ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩২২ হওয়ায় নগরবাসীর জন্য তা চরম অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোরে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া ব্যক্তি এবং কর্মজীবীদের জন্য বাতাসে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দূষিত কণা ফুসফুসে প্রবেশের আশঙ্কা বেড়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলাবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং আশপাশের ইটভাটার নির্গমন ঢাকার বায়ুকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।