প্রচ্ছদ জাতীয় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কি ইউনূস? ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বিস্ফোরক প্রতিবেদন

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কি ইউনূস? ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বিস্ফোরক প্রতিবেদন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভারতীয় একাধিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। ভারতের উত্তরবঙ্গ সংবাদ, এইসময় অনলাইন সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস-এর নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন—এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে ইউনূসের নাম সামনে আসছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে।

ভারতীয় বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকার গঠনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির পদ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউনূসের গ্রহণযোগ্যতা এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক নতুন সরকারের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় সম্পদ হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ইউনূসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদনের ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে—এই বাস্তবতায় ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে সেটি কেবল আলঙ্কারিক নয়, বরং নীতিগত ও কৌশলগত গুরুত্ব বহন করবে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এতে করে সরকারপ্রধানের পাশাপাশি আরেকটি শক্তিশালী ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি হবে কি না।

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য কেবল ইউনূসই নন, বিএনপির ভেতরে একাধিক বর্ষীয়ান নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় ঘুরে ফিরে আসছে। দলীয়ভাবে অনুগত কাউকে রাষ্ট্রপতি করলে সরকারের নীতিনির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় থাকবে—এমন মতও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-কে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কোনও সাংবিধানিক পদে বসানো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং দেশের স্বার্থে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিতে আগ্রহী—এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

এই জল্পনার মধ্যেই ব্রিটিশ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যান সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে—অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত একজন রাষ্ট্রপতির সমন্বয়। তাঁর এই মন্তব্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে সব জল্পনার বিপরীতে ইউনূস শিবির থেকে এই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করা হয়েছে। তাঁর প্রেস সচিব জানিয়েছেন, ইউনূস রাজনীতি বা কোনও সাংবিধানিক পদে আগ্রহী নন। বরং তিনি তাঁর ‘থ্রি জিরো’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—এই বৈশ্বিক দর্শন নিয়েই কাজ করতে চান।

সব মিলিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে স্পষ্ট, মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হবেন কি না—তা এখনো অনিশ্চিত। তবে ক্ষমতার পালাবদল, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বাস্তবতায় তাঁর নাম যে বঙ্গভবনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।