প্রচ্ছদ জাতীয় বাদ পড়লেন বিএনপির যেসব হেভিওয়েট নেতারা

বাদ পড়লেন বিএনপির যেসব হেভিওয়েট নেতারা

দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে মন্ত্রিসভা গঠনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে বিএনপি। প্রথাগত অভিজ্ঞতার চেয়ে ‘পরিবর্তন ও তারুণ্যকে’ গুরুত্ব দিয়ে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় একঝাঁক নতুন মুখের অভিষেক ঘটেছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় মেধা ও গতির সমন্বয় ঘটাতে গিয়ে বাদ পড়েছেন দল এবং জেটের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার শপথ নেওয়া মন্ত্রিসভার তালিকায় নাম নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির অনেক হেভিওয়েট সদস্যের। এদের মধ্যে আছেন, নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ড. আব্দুল মইন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, । এছাড়া কেন্দ্রীয় রুহুল কবির রিজভী, ড. ওসমান ফারুক, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, ড. রেজা কিবরিয়া, খায়রুল কবির খোকন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং বিজেপি নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০ বছর পর সরকারে বিএনপিতারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০ বছর পর সরকারে বিএনপি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিএনপির একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। প্রবীণদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বদলে দলীয় সাংগঠনিক কাজে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরনোদের বদলে এবারের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন দলের মাঠপর্যায়ের এবং অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানোই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। দলকে আরও গতিশীল করতে এবং আগামীর নেতৃত্ব তৈরিতেই প্রবীণদের বদলে নবীনদের ফ্রন্টলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে বাদ পড়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের অভিজ্ঞতাকে দলের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবহার করা হবে বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নির্বাসন থেকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননির্বাসন থেকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে ভারতসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করল। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই ‘তরুণ’ মন্ত্রিসভা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।