প্রচ্ছদ জাতীয় জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বার্তা!

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার রাত সোয়া ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

ভাষণের শুরুতেই ড. ইউনূস দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন যে, সদ্য সমাপ্ত এই নির্বাচন ভবিষ্যতে দেশের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি ‘উৎকৃষ্ট উদাহরণ’ হয়ে থাকবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে দেশ এক মহাবিপদ থেকে মুক্ত হয়েছিল। অচল দেশকে সচল করার যে কঠিন দায়িত্ব ছাত্রনেতারা তার ওপর অর্পণ করেছিলেন, ১৮ মাস নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে আজ তিনি সেই দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বত্র এক মহাসংকট ছিল। দুর্নীতিবাজ ও অনুগত কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ায় কাকে বিশ্বাস করবেন তা ছিল এক বড় প্রশ্ন। গত ১৮ মাসে তার সরকার সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন—এই তিনটি মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে এক নতুন গণতান্ত্রিক যুগের সূচনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ড. ইউনূস বিজয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের ওপরও প্রায় অর্ধেক ভোটারের আস্থা রয়েছে, যা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার প্রেরণা দেবে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরিশেষে অধ্যাপক ইউনূস বলেন যে, একটি স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশে ফেরার যে অঙ্গীকার তারা করেছিলেন, তা পালনে কোনো প্রচেষ্টার ঘাটতি ছিল না। মঙ্গলবার নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের এই যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে। সাফল্যের বিচারের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি নতুন বাংলাদেশের জন্য সবার মঙ্গল কামনা করেন।