
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকায় দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ওমর ফারুক নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল কর্মী হানিফ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। আক্রান্ত ওমর ফারুক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং স্থানীয় ফ্রেশ অটো রাইস মিলের মালিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওমর ফারুক। এ সময় হানিফ তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তার ওপর আক্রমণ করে। এ সময় হানিফ জানতে চায় কেন সে (ওমর ফারুক) চাঁদার বিষয়টি বিএনপি নেতা জাকির হোসেন সরকারকে জানিয়েছে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়।
হামলার শিকার ওমর ফারুক জানান, ‘৫ আগস্টের পর সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মাজেদ ও তার অনুসারী হানিফ ব্যাপারী কয়েক দফায় ১৯ লাখ টাকা চাঁদা নেয় আমার থেকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমার কাছে মাজেদের অনুসারী হানিফ নতুন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারকে জানান। এ ঘটনার পর তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। তারা অবিলম্বে মাজেদ ও হানিফ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা জানান, ‘৫ আগস্টের পর মাজেদ খাজানগর এলাকার মিল মালিকদের হুমকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে। হানিফকে ব্যবহার করে মাজেদ মিল মালিকদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা আদায় করেছে। তাদের দুইজনের চাঁদাবাজির কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।’ এদিকে, হামলার পর এলাকার মানুষ জোটবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার একটি দল সেখানে যায়। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পুলিশ। হামলাকারী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয় পুলিশ।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হামলা ও দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদল কর্মী মো. হানিফ করিবারজকে দলের প্রাথমিকসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুর ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু। উল্লেখ, জেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে আগেই।









































