
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে ভারত। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করলেও তাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে নয়া দিল্লি। ঢাকা থেকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হলেও এই ইস্যুতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ভারত।
এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে?
এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রশ্ন করে বার্তা সংস্থা রয়টারস। নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকারে এলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ একটি উন্নত জীবনযাপন করতে পারে।
তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে যে দেশ বা অংশীদার জনগণ ও দেশের জন্য বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব গড়ে তোলা হবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি একতরফা ঝোঁক থাকবে না।
শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। শেখ হাসিনার পতনের আগে ও পরবর্তী সময়ে দলটির বহু জ্যেষ্ঠ নেতা এবং পরিবারের সদস্যরা বিদেশে চলে গেছেন।
এদিকে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক সহযোগিতা এবং জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে নির্বাচনের পর ঐকমত্যের সরকার গঠনের সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রয়টারসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠন করতে সক্ষম।













































