
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে সংসদে দাবি জানাব আওয়ামী লীগকে যে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা তুলে নেওয়া হয়। একাত্তরের চেতনার পক্ষে কথা বলে, জাতীয় পার্টি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল। সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দলগুলো জাতীয় পার্টির পিছনে কুকুর লেলিয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা আব্দুল হক ডিগ্রি কলেজ মাঠে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।
তিনি বলেন, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি- তারা সকাল বিকাল জাতীয় পার্টিকে গালি দিয়েছে। জাতীয় পার্টি যাতে ভোটে ফাইট করতে না পারে তাই পিছনে লেগেছে। এনসিপি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বললো, কি নতুন বাংলাদেশ গড়লো তারা? বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করে ফলপ্রসূ হলো না। তারা জামায়াতে যোগ দিলো। ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে গেলো। যাহা এনসিপি তাহাই জামায়াত, যাহা জামায়াত তাই এনসিপি।
এনসিপি ছদ্মবেশী রাজনীতি করেছে উল্লেখ করে শামীম হায়দার বলেন, রাজনীতি কোন ছদ্মবেশী খেলা নয়। আমরা একটি দেশ বাঁচানোর রাজনীতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা দেখছি দেশ ধ্বংসের রাজনীতি হচ্ছে।
আ.লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে জাপা মহাসচিব বলেন, আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে সংসদে দাবি জানাব আওয়ামী লীগকে যে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা তুলে নেওয়া হয়। যারা দোষী তাদের আইন অনুযায়ী বিচার করা হোক, আর যারা নিরপরাধ তাদের ফিরিয়ে আনা হোক। আমি বলতে চাই যে দলের বিরুদ্ধে কোন মামলা তাদের কেন নিষিদ্ধ করা হলো? একটি বৃহৎ দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা আইন ও সংবিধানসম্মত হয়নি।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘একমুখী নির্বাচন করতেই আওয়ামী লীগকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাহলে আমরা কি বিনির্মানের বাংলাদেশ পেলাম। তিনি বলেন- যখন জামায়াতকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হলো আমরা জোরালো প্রতিবাদ করেছি। কোন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে জাতীয় পার্টি সমর্থন করে না।’
সরকারের সমালোচনা করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এই সরকার এবং তার সমর্থিত দল গুলো ফ্যাসিবাদ, হয়তো আরও বড় ফ্যাসিবাদ। আমরা আগেও দেখেছি সরকার নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। এখনো দেখতে পাচ্ছি এই সরকারও নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। গণভোটে দুইটি পক্ষ তৈরি হয়েছে হ্যাঁ এবং না। সরকার গণভোটের পক্ষ নিয়েছে, কোন সরকার গণভোটের পক্ষ নিতে পারেনা। আমরা দেখতে পাচ্ছি গণভোটে মানুষের আগ্রহ কম। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাদ দিয়ে দেশ সংষ্কারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনসমর্থনের অভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।












































