প্রচ্ছদ হেড লাইন আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে

আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে, আর জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগও থাকবে

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নিজের গভীর পর্যবেক্ষণ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইউকে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক অবস্থান এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। মাহফুজ আলম মনে করেন, বাংলাদেশের পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো বা ‘ওল্ড সেটেলমেন্ট’ থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি, যা নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের পথে বড় বাধা।

সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম জামায়াতে ইসলামীকে আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’ বা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, দেশে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকলে জামায়াত থাকবে এবং জামায়াত থাকলে আওয়ামী লীগও টিকে থাকবে। এই দুই দলের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণেই তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন।

মাহফুজ আলম জানান, তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিকে নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তবে তার দল এনসিপি যখন পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়, তখন সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিনি একে দেড় বছরের যাত্রায় এক ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জামায়াতের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি বা আদর্শিক বিষয়ে নতুন প্রজন্মের কোনো মেলবন্ধন সম্ভব নয়।

সমাজের ক্ষত ও অস্থিতিশীলতা: ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় বিএনপি বা জামায়াত যেই আসুক—সমাজের ভেতরের ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকবে না। তিনি মনে করেন, কেবল কাগজে-কলমে সংস্কার করে মব ভায়োলেন্স বা বিশৃঙ্খলা থামানো যাবে না। এর জন্য সমাজের ভিন্নমত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা বা ‘রিনেগোসিয়েশন’ অত্যন্ত জরুরি।

গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত অবস্থান: গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের বিশ্বাস ফিরে পেতে গণমাধ্যমকে তাদের অতীতের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া বা বিশেষ বোঝাপড়ায় আসা উচিত। বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মাহফুজ আলম বই পড়ে এবং হতাশ তরুণদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করছেন যে কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো প্রত্যাশিত পথে এগোতে পারল না।