
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এই ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে সেই অনুষ্ঠানে সব দলের জন্য আসন নির্ধারিত থাকলেও জামায়াত নেতা-কর্মীরা সব চেয়ার আগেভাগেই দখল করে রেখেছিলেন। প্রশাসনের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। বসার জায়গার মতো একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কেন একটি দল লাঠিসোঁটা জড়ো করল এবং কেন জামায়াত প্রার্থী প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে সংঘাতের পথ বেছে নিলেন?
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র দিয়ে বলেন, জামায়াত প্রার্থীকে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা হাতজোড় করে অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি উসকানিমূলকভাবে সংঘাতপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তাকে ‘জান যায় যাক’ বলতেও শোনা গেছে। এই সংঘর্ষে বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিএনপির এই নেতা শেরপুরের ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। কোনো উসকানিতে পা না দিতে এবং সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ আসনের ওই সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
সূত্র : জনকণ্ঠ











































