
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত দেশের বড় নির্বাচনগুলোতে কোনো একজন শীর্ষ নেতাকে কেন্দ্র করে প্রচারণার জোয়ার তৈরি হলেও, এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে সেই চিরচেনা চিত্র অনুপস্থিত।
আগামী নির্বাচনে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকছে দুটি প্রধান বলয়ে। একদিকে রয়েছে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলোর জোট, যার নিরঙ্কুশ নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। অন্যদিকে রয়েছে জামায়াত ও তাদের শরিক ৯টি দলের জোট। তবে এই জোটটি কোনো একক নেতৃত্বের পরিবর্তে যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বেশ ব্যতিক্রমী।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই ১০ দলীয় জোটে পাঁচটি ইসলামপন্থী এবং পাঁচটি তুলনামূলক উদারপন্থী বা ধর্মমনিরপেক্ষ ঘরানার দল রয়েছে। দলগুলো হলো:
ইসলামপন্থী: জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
অন্যান্য: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
বিচিত্র মত ও পথের এই দলগুলো ঠিক কোন আদর্শিক ভিত্তিতে বা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের ওপর দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তা এখনো জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট নয়। নির্বাচনী প্রচারণায় নামলেও জোটের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো শাসনতান্ত্রিক রূপরেখা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ঘোষণা আসেনি। আদর্শিকভাবে বিপরীতমুখী দলগুলো কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই এই ঐক্য গড়েছে নাকি এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক দর্শন কাজ করছে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মাঝে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
একক নেতা ছাড়া এই বড় জোটটি ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা








































