
কোনো দল বা জোটের নাম না নিয়ে মৌলভীবাজারের জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল নানা কৌশল করে নির্বাচন থেকে সরতে চায়। তারা প্রটোকল চায়। আমি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তাদের জন্য থ্রি ডাবল প্রটোকল দাবি করছি। মৌলভীবাজারের আইনপুরের ২য় নির্বাচনী বিশাল জনসভায় জনতার উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, যারা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করছে, যারা এই দেশের মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করছে। নির্বাচনে তারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। তারা দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে, শিরক করছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো একটি দল ভোট চুরিরও পাঁয়তারা করছে। এদের সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। এ সময় তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, ঠিক বলেছি? জবাবে সমস্বরে উপস্থিত জনতা ‘হ্যাঁ’ বলে চিৎকার করেন। পরক্ষণেই তারেক রহমান বলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ্’। তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে উপস্থিত লক্ষ জনতা, সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি জনতাই বিএনপি’র রাজনীতির শক্তির মূল উৎস। জনগণ হলো বিএনপি’র সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। ’৭১ সালে দেশ স্বাধীনের সময় যদি এরা দেশের পক্ষে কাজ করতো তবে আমাদের এতো রক্তপাত ও এতো প্রাণহানি হতো না- এমন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ’৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হয়েছি। এটা ধরে রাখতে হবে। তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫-১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কীভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্যদেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি। আমরা স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছি, গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে। আমরা বিজয়ী হলে জিয়াউর রহমানের মতো খাল খনন করতে চাই। এ সময় উপস্থিত সবাইকে নিয়ে তিনি স্ল্লোগান দেন। বলেন- করবো কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ লন্ডন প্রবাসী বেশি। লন্ডন যেতে যতসময় লাগে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে ঢাকা যেতে। আমি এখানে আসার পথে সড়কের এমন বেহাল দশা দেখেছি। খালেদা জিয়া ও সাইফুর রহমানের আমলের উন্নয়নের পর এ অঞ্চলে আর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিগত ফ্যাসিস্টরা কেবল গুম, খুন, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন হরণ করেনি। এদেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। বিগত বছরগুলোতে উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের নামে দেশের সম্পদ লুট করা হয়েছে আর এখন একটি দল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি, কৃষক কার্ডের কথা বলেছি এ থেকে চা শ্রমিকসহ দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আর্থিক সুবিধা পাবে। এ সময় তিনি উন্নয়ন, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য ধানের শীষে ভোট চান। জেলার ৪টি আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। বক্তব্য দেয়ার একপর্যায়ে তিনি সমাবেশ থেকে ওমরাহ্ পালন করে আসা একজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। বিএনপি’র চেয়ারম্যান ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি তো কা’বা শরীফে গিয়েছেন, কা’বা শরীফের মালিক কে? তারেক রহমান তার কাছে জানতে চান, এই দুনিয়া, জান্নাত-জাহান্নামের মালিক কে? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ্। এরপর বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন, দোযখের মালিক আল্লাহ্, বেহেশতের মালিক আল্লাহ্, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ্, সবার মালিক আল্লাহ্। জেতার মালিকও আল্লাহ্। সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দিবো, ওই দিবো বলছে, বেহেস্তের টিকিট দিবে বলছে। জেতার মালিক মানুষ না, সেটার কথা বলে শিরক করা হচ্ছে। শিরককারী ও মোনাফেকের দলের অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বান জানান। এরপর ওই ব্যক্তিকে তার আসনে বসান। এমন দৃশ্য জনসমাবেশে উপস্থিত জনতা হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানান।
জনসভায় জেলার ৭টি উপজেলা থেকে বিএনপি, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর গড়াতেই শেরপুরের আইনপুর মাঠে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন- মৌলভীবাজার-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এম. নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম শুকু, মৌলভীবাজার-৪ আসনের মুজিবুর রহমান মুজিব, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ, বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আলহাজ অদুদ আলম, জেলা বিএনপি নেতা ভিপি মিজানুর রহমান মিজান, আশিক মোশাররফ, আয়াছ আহমদ, স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক এমএ মুহিত, সদর বিএনপি’র সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, পৌর বিএনপি’র সভাপতি অলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহেমেদ রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান, জেলা কৃষদলের সভাপিত শামীম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহমেদ আহাদ প্রমুখ।
সূত্র: মানবজমিন













































