
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার নিজ জন্মস্থান জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অলিপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহত মোতালেব হোসেন ১১ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে তার মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে নিজ বাড়ির সামনে মসজিদের পাশেই জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে জানান নিহতের স্বজনরা।
নিহতের বড় ভাই মো. মুজিবুর রহমান ভুইয়া জানান, প্রথমে ফোনে জানানো হয় আমার ভাই একটি বড় অপারেশনে গেছে, সে অসুস্থ। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ফোনে জানানো হয়, আমার ভাই আর নেই। তিনি বলেন, দেশের জন্য আমার ভাই জীবন দিয়েছে, সে আমাদের গর্ব। কিন্তু যারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ছোট ভাই নিহত মোতালেব হোসেনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম। তিনি বলেন, গত শুক্রবার আমার ভাই বাড়িতে এসেছিল। চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় তার বড় মেয়ে বারবার বলছিল, আব্বু আজ যেয়ো না। মেয়েকে সান্তনা দিয়ে মোতালেব বলেছিল, সরকারি কাজ যেতেই হবে। আজ যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, আমরা তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই দিন আগে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান মোতালেব হোসেন। যাওয়ার সময় বড় মেয়ে তাকে কর্মস্থলে যেতে বাধা দিয়েছিল বলেও পরিবার জানায়। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। চাকরি থেকে অবসরের পর গ্রামের বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রায় দুই বছর আগে বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন, যা এখনো অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এদিকে, কালিরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. কামরুজ্জামান বলেন, মোতালেব হোসেন ছিলেন এলাকার গর্ব। তার মতো একজন সৎ ও সাহসী মানুষকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানো সময় নিহত হন র্যাব-৭ চট্টগ্রামের ডিএডি মো. মোতালেব হোসেন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন।








































