
চিলির দক্ষিণাঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত দাবানলের তাণ্ডবে অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অসংখ্য জনপদ। গত দুই দিন ধরে চলা এই আগুনে দেশটির নিউবল এবং বায়োবায়ো অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই এলাকাগুলোতে তীব্র বাতাস এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক উপদ্রুত অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।
দাবানলের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পেনকো শহরে। সেখানকার মেয়র রদ্রিগো ভেরা জানিয়েছেন, আগুনের প্রচণ্ডতায় মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি ও যানবাহন পুড়ে কঙ্কাল হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই দ্রুত ধেয়ে আসছিল যে অনেকেই কেবল পরনের কাপড়টুকু নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্র সৈকতের দিকে ছুটে গেছেন। পেনকো ও পার্শ্ববর্তী লিরকুয়েন শহরে বর্তমানে সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।
প্রেসিডেন্ট বোরিক ক্ষতিগ্রস্ত কনসেপসিয়ন শহর সফর করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি উপদ্রুত শহরগুলোতে নৈশকালীন কারফিউ জারি করেছেন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত কঠিন’ বলে সতর্ক করেছেন।
প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় তিনি সোমবার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোসে আন্তোনিও কাস্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মকালীন প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চিলির ন্যাশনাল সার্ভিস ফর ডিজাস্টার প্রিভেনশন অ্যান্ড রেসপন্স-এর পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান জানিয়েছেন, বায়োবায়োর উপকূলীয় শহরগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে উচ্চ তাপমাত্রা এবং শক্তিশালী বাতাসের কথা বলা হয়েছে, যা অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিলিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়া, খরা এবং ভয়াবহ দাবানলের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ভিনা দেল মার শহরে ভয়াবহ দাবানলে ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
সূত্র: এনডিটিভি









































