প্রচ্ছদ জাতীয় সংবিধানে থাকছে ‘বিসমিল্লাহ’; গুজব ছড়াচ্ছেন আব্বাসী

সংবিধানে থাকছে ‘বিসমিল্লাহ’; গুজব ছড়াচ্ছেন আব্বাসী

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটকে কেন্দ্র করে সংবিধানে আল্লাহর নাম রাখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। আলোচিত ইসলামি বক্তা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীসহ একটি বিশেষ মহল দাবি করছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস’ সরিয়ে ফেলা হবে। তবে সরকারি নথিপত্র এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, এই দাবিটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও গুজব।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করছেন যে জুলাই জাতীয় সনদে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার নীল নকশা করা হয়েছে। অথচ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রথম খণ্ডের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের বর্তমান বিধানটিও অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে কমিশন। কমিশনের ওয়েবসাইটে সংগৃহীত জনমতের ভিত্তিতেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, যা আব্বাসীর দাবির ঠিক উল্টো চিত্র প্রকাশ করে।

গণভোটের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর মূলনীতিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সনদে বিসমিল্লাহ বা ধর্মীয় কোনো শব্দ পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ নেই। বরং ২৪টি রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদে ধর্মীয় মূল্যবোধকে যথাযথ সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে। গণভোটের জন্য তৈরি সরকারি ওয়েবসাইট ‘gonovote.gov.bd’ তেও এই সংক্রান্ত গুজবের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর মতো প্রভাবশালী বক্তারা যখন সঠিক তথ্য যাচাই না করে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য করেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মূলত ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেই এই ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জুলাই জাতীয় সনদ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দলিল, যা ধর্মীয় অবস্থানকে সংকুচিত করার পরিবর্তে আরও শক্তিশালী করতে চায়।

১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ভোটকে সামনে রেখে জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকছে—এই সত্যটি এখন সরকারি দলিলেই প্রমাণিত।