প্রচ্ছদ জাতীয় হলফনামায় চমক: ফয়জুল করীমের ব্যাংকে ১ হাজার টাকা

হলফনামায় চমক: ফয়জুল করীমের ব্যাংকে ১ হাজার টাকা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তাঁর দাখিলকৃত হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর সম্পদের যে বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ও চায়ের টেবিলে চলছে জোর বিশ্লেষণ। হলফনামা অনুযায়ী, এই হেভিওয়েট প্রার্থীর নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স নামমাত্র হলেও তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে বিশাল অংকের সম্পদ ও স্বর্ণালংকার।

ব্যাংক ব্যালেন্স বনাম নগদ টাকা: এক বৈপরীত্যফয়জুল করীম তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে মাত্র ১,১৭৬ টাকা। তবে ব্যাংকে টাকা না থাকলেও তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ৩১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর হাতে নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা থাকলেও ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হয়েছে। তবে স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিভিন্ন সম্পদ এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ১৮৭ ভরি সোনা থাকার তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

আয় ও পেশার খতিয়ানপেশা হিসেবে ফয়জুল করীম নিজেকে শিক্ষকতা ও দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর আয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো:

মাহফিল: বছরে ৪ লাখ টাকা।

শিক্ষকতা: ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা।

অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া: ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাঁর মোট বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসেবে গৃহিণী ও ব্যবসার কথা উল্লেখ রয়েছে।

জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত রাইফেলসম্পদের তালিকায় দেখা যায়, ফয়জুল করীমের নামে রয়েছে ২ হাজার ৪৩৬ শতাংশ কৃষি জমি, যার মূল্য কোটির ওপরে। এছাড়া পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাণিজ্যিক ভবন ও ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকা। শায়খ চরমোনাইয়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একটি ২২ বোর রাইফেল রয়েছে বলেও হলফনামায় জানানো হয়েছে।

কর ও আইনি তথ্যহলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে অতীতে ৩টি মামলা ছিল। তিনি চলতি অর্থবছরে ৯৬ হাজার ৪৭৫ টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রীর সম্পদের বিপরীতে কর দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। একজন শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতার সম্পদের এই খতিয়ান এখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

সূত্র : ইত্তেফাক