
শিবিরে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ আবু তাহের ভাইয়ের মেয়ে ফারজানা মাহবুবার লিখা——–
জামাত এখন মোরালি এবং এথিক্যালি প্রচণ্ড করাপ্টেড দল হয়ে গেলেও আমাদের বেড়ে উঠার সময়টা ডিফরেন্ট ছিলো। আমি প্রায়ই ভাবি, আমাদের জেনারেশনের জামাতের বাচ্চাকাচ্চারা অসম্ভব রকম ভাগ্য নিয়ে জন্মেছিলো যে তারা সত্যি সত্যি বাস্তবে দেখেছিলো একটা আদর্শিক দল কেমন হয়, কেমন হয় তাদের নেতা-নেত্রীরা, কেমন হয় তাদের পরিবারগুলো। আদর্শ আসলে জীবনে যাপন করে কীভাবে।
আসিফ নজরুলের একটা ছবি দেখলাম। জমিদার স্টাইলে নৌকার পাটাতনে পাটি বিছিয়ে তার উপর মোড়া দিয়ে সেই মোড়ায় উনি বাবু সেজে বসে আছেন।
তার আগে দেখলাম স্বাস্থ্য উপদেষ্ঠা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ভরসা করতে পারছেন না, তাই নিজের স্বাস্থ্য ঠিক করতে সিংগাপুর গিয়েছেন।
জামাত যদিও এখন আদর্শিক দল থেকে পলিটিক্যাল দল হয়ে উঠেছে, কিন্তু তাদের আদর্শের যে ছিঁটেফোঁটা রয়ে গেছে তাতেই দেশের মানুষ দেখেছে জামাত আমীর এমন সিরিয়াস অসুস্থ হয়েও দেশেই চিকিৎসা করিয়েছেন। বিদেশে যাননি।
তো ছোটবেলার গল্প বলি।
একজন জামাত নেতা জামাতের অফিসে ওয়াশরুমে ঢুকেছেন। ঢুকেই আবার বের হয়ে জিজ্ঞেস করছেন ওয়াশরুমে যে সাবানটা আছে এটা কার। কারণ এটা যার সাবান তার থেকে উনি অনুমতি নিবেন ঐ সাবান দিয়ে উনি হাত ধুতে পারবেন কিনা!
আরেকটা গল্প বলি। এটা আমার নিজের দেখা। ছাত্রীসংস্থার ঘটনা। দায়িত্বশীলদের বিশাল গেদারিং। শোয়ার জায়গা নায়। সবাই চাপাচাপি করে গণ-বিছানা স্টাইলে মাটিতে পাটি পেতে তাতেই ঘুম। জায়গা না পেয়ে কার্পেট আর ফ্লোরের উপরেও ঘুম অনেকে। ভোর রাতের আগে ফিসফিস আওয়াজে কুরআন তেলাওয়াতের আওয়ায শুনে অফিসের সামনের বারান্দায় গিয়ে দেখি দায়িত্বশীল আপা কয়েকজন স্তূপে স্তূপে সাজানো জুতাগুলোকে কোনোরকমে সাইড করে তার পাশেই গুটিসুটি মেরে ঘুমুচ্ছেন। একজন ওখানেই বসে বসে কুরআন পড়ছেন। স্পষ্ট বুঝেছিলাম উনি রাতে ঘুমাননি। উনার জায়গা নেই শোয়ার। অথচ উনিই রাতে আমি শুতে পেরেছি কিনা (কিচেনের সাইডের একটুখানি জায়গায়) নিশ্চিত করে গিয়েছিলেন!
এইরকম হাজার গল্প। একদম নামধাম ধরে বলা যায়। আমি যদি শুধু আব্বুকে কেমন দেখেছি তাওও বলি, দিস্তা দিস্তা পৃষ্ঠা লাগবে। নিজের চোখে দেখেছি ড্রাইভার চাচার সাথে এক মাদুরে বসে খেতেন। ড্রাইভার চাচাকে ভাল তরকারীটা বেশী করে দিয়ে নিজে অল্প করে নিতেন।
এগুলো বলি জামাতকে ভালো দেখাতে না। (আবারো বলি- জামাত আমার কাছে এখন পলিটিক্যাল দল, আদর্শিক দল না)। তাহলে এগুলো বলি কেনো? এগুলো বলি যারা দেশ আর মানুষের জন্য কাজ করবে- তাদের জীবন কেমন হবে- সেই উদাহরণ দিতে।
অনেকেই ভাববেন, শুধু ইসলামিক দলের নেতানেত্রীরাই বুঝি একসময় এমন ছিলেন। বা তাদের পক্ষেই বুঝি এমন হওয়া সম্ভব।
ভুল ধারনা।
উরুগুয়েতে এই এগার বছর আগেও একজন প্রেসিডনেট ছিলেন- প্রেসিডেন্ট হোসে পেপে। একটা পুরাতন বাপদাদার আমলের গাড়ী চালাতেন যখন উনি প্রেসিডেন্ট। ড্রাইভার নিতে অস্বীকার করেছিলেন। প্রেসিডেন্সিয়াল কোন সুযোগ সুবিধা তো নেন নাইই, উল্টা নিজের সেলারী দান করে দিতেন রেগুলার। নিজের বাপদাদার আমলের কৃষিক্ষেতের ঘরেই থাকতেন। কনস্টিটিউশানের নিয়ম মেনে মেয়াদ শেষে নিজেই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলেন- যদিও তখনো তার পপুলারিটি তুঙ্গে।
ক্ষমতায় গিয়ে যে মহাজন আর জমিদার সাজে, তাদেরকে ঘেন্নাভরে প্রত্যাখান করুন। এরা পুরাতন বন্দোবস্ত। এরা নতুন বাংলাদেশের অংশ না। এরা জুলাইয়ের আগের রাজনীতির অংশ।
এদেরকে যেখানে দেখবেন সেখানে থুতু দিন, জুতা মারুন, আর কিছু না পারলে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করুন- এই যে মহাজন সেজে বসে আছস লাটসাহেবের মত, দেশটা কি তোর বাপের জমিদারী?
নাগরিক রাষ্ট্রে সরকারের প্রতিটা মানুষ জনগণের কর্মচারী। তুই কর্মচারী কর্মচারীর মত থাকবি, তুই কেনো বৃটিশ লাটসাহেব সাজতে যাস?!
জুলাই বিপ্লব কী তোদেরকে লাটসাহেব বানাইতে হইছিলো?










































