প্রচ্ছদ জাতীয় মিষ্টির আসনে ‘মিষ্টি লড়াই’ কার পাল্লা ভারী?

মিষ্টির আসনে ‘মিষ্টি লড়াই’ কার পাল্লা ভারী?

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া নারী আসন-২৩ ঘিরে দলটির ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকজন নারী নেত্রী, রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য এবং পেশাজীবী পরিচিত মুখের নাম আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের বড় মেয়ে নওশিন খান, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী ও দলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আশরাফী পাপিয়া।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর আলীর স্ত্রী ডা. রাবেয়া আক্তারের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

দলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় কয়েকজন নারী নেত্রীর নামও রয়েছে এই তালিকায়। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রেহানা আক্তার শিরিন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদা মনির নাম আলোচনায় রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা কাজী রেহা কবির সিগমার নামও সংরক্ষিত আসনটি ঘিরে আলোচনায় এসেছে। দলীয়ভাবে মনোনয়ন আবেদন গ্রহণ করা হলে তার পক্ষ থেকেও প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি।

রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজী। এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে তিনি আবেদন ও সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

গণমাধ্যম অঙ্গন থেকেও আলোচনায় এসেছে সাংবাদিক ও উপস্থাপক কাজী জেসিনের নাম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, সংসদে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিতর্কে পরিচিত মুখকে সামনে আনার চিন্তা থাকলে পেশাজীবী অঙ্গনের এমন পরিচিত মুখও বিবেচনায় আসতে পারেন।

‘পরিচিত মুখ’ খুঁজছে বিএনপি?

দলীয় একটি সূত্রের দাবি, সংরক্ষিত নারী আসনে এবার শুধু সাংগঠনিক পদ-পদবির বিষয়টি বিবেচনায় না রেখে সংসদে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতে সক্ষম এবং বিতর্কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এমন কাউকে বেছে নেওয়ার বিষয়েও দলের একটি অংশ ভাবছে।

বিশেষ করে সংসদে বিএনপির পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখতে পারবেন এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত এমন একটি মুখকে বিবেচনায় নেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে বলে ওই সূত্রের দাবি।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য আসন

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিষ্টির নাম আলোচনায় আসার পর তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি গত ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং একই দিন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় মিষ্টি নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনটি যে দল বা জোটের অনুকূলে ছিল, শূন্য হওয়ার পরও আসনটি সেই দল বা জোটেরই থাকে। ফলে মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন। একাধিক প্রার্থী হলে সংশ্লিষ্ট দলের সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন; তবে সাধারণত একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার নজিরই বেশি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানকে মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে দলের ভেতরে নানা আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে, তা নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র: জাগো নিউজ