
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করে যিনি যাত্রী ও প্রবাসীদের কাছে আলোচিত হয়ে উঠেছিলেন, সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ খান এখন আর বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন না। ৩৫তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে নওশাদ খান বিভিন্ন অনিয়ম, যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন। লাগেজ কাটা ও চুরির অভিযোগ, টয়লেটে বকশিশ আদায়, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা যাত্রীদের হয়রানির মতো বিষয়েও তাকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়।
দায়িত্ব পালনের সময় বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা এবং ঘটনাস্থলেই ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। অনেকেই তাকে ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে অভিহিত করেন।
নওশাদ খান বিমানবন্দরে না থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, ট্রলি সংকট এবং হাজিদের জমজমের পানি পরিবহনসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—বিমানবন্দরের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া সেই কর্মকর্তাকে কেন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো?
তবে তাকে বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট, প্রভাবশালী মহল বা তদবির কাজ করেছে—এমন দাবির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের নানা আলোচনা থাকলেও সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নওশাদ খানের বর্তমান কর্মস্থল নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ালেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার বর্তমান দায়িত্বের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের মধ্যে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল। ফলে তিনি বিমানবন্দর থেকে সরে যাওয়ার পর তার কাজের ধরন ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।










































