
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেয়র পদে নির্বাচন করা একজন ব্যক্তি আগামীতে বিএনপির প্রার্থী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে সিরাজগঞ্জ সরকারি ইসলামিয়া কলেজ মাঠে জেলা বিএনপি ও জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আয়োজনে ‘দেশব্যাপী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি বেগম রোমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম। এ সময় সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য আকবর আলী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুল ইসলাম শাহীনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ আমার আত্মা। এই সিরাজগঞ্জের মানুষ আমাদের আত্মা, আমাদের হৃদয়স্পন্দন। এই মানুষদের কাছে আমি আসব না, এটা কোনো দিন হতে পারে না। তাই অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও আজ আপনাদের মাঝে এসেছি।’
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সিরাজগঞ্জে বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী আছেন, তাঁদের কেউ আওয়ামী লীগের নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। তাঁর ভাষ্য, ‘আওয়ামী লীগ আমার নেতা-কর্মীদের বাড়িতে অত্যাচার করেছে। অন্যায়-অত্যাচারের পাল্লা যখন ভারী হয়েছিল, তখন জুলাই বিপ্লব হয়েছিল।’
জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে টুকু বলেন, তাঁরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে টুকু বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরে কয়েক দিন পরেই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ লাগল। তারা তেলের সাপ্লাই বন্ধ করে দিল। আমরা অতিরিক্ত মূল্যে তেল ও গ্যাস কিনে এনে দেশের অবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’
গ্যাস খালাস ও বিতরণের একটি যন্ত্রে আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে ২০২২ সালে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন টুকু। ওই সময় বিএনপি-জামায়াতের পরিবর্তে ‘আওয়ামী-জামায়াত’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ভিপি শামীম খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ সুইট।
এ সময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, সাবেক ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, মকবুল হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সি জাহেদ আলম, সাংবাদিক মো. হারুন অর রশিদ খান হাসান, নূর কায়েম সবুজ, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আলআমীন খান, সাধারণ সম্পাদক মো. মোরাদুজ্জামান মুরাদ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সেরাজুল ইসলাম সেরাজসহ জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।












































