
ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের খান্ডওয়া জেলায় ধরা পড়েছেন এক ব্যতিক্রমী চোর যিনি নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু পুলিশ সদস্যদের বাড়িতেই চুরি করতেন। পুলিশ বলছে, ১৫ বছর আগের এক মারধরের ঘটনার ক্ষোভ থেকেই তিনি এমন পথ বেছে নেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম দীপেশ। তার বাড়ি আলিরাজপুর জেলায়। গত ২০ জানুয়ারি খান্ডওয়ার পুলিশ লাইনে সংঘটিত এক চুরির তদন্ত করতে গিয়েই তার সন্ধান মেলে।
ওই রাতে পুলিশ লাইনে কনস্টেবল করণপাল সিং ও সুরেশ খাটের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে সংঘটিত ওই চুরিতে কয়েক লাখ টাকার গয়না ও নগদ অর্থ খোয়া যায়।
ঘটনার পর পুলিশ লাইনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দীপেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ও কিছু গয়না উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার এড়াতে দীপেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় স্থান পরিবর্তন করছিলেন। তাকে ধরতে ঝাবুয়া, ধর ও আলিরাজপুর জেলায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে তিনি বুরহানপুরের দিকে যাচ্ছেন।
পুলিশ তাকে ধরতে গেলে তিনি একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এতে তার হাত-পায়ে আঘাত লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে খান্ডওয়া আদালতে হাজির করা হলে তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।
খান্ডওয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহেন্দ্র তারনেকর বলেন, এটি বড় ধরনের সাফল্য। জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকটি চুরির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের সঙ্গে জড়িত রমেশ ও ভুরালিয়া নামে দুজন সহযোগীকেও খোঁজা হচ্ছে।
খান্ডওয়ার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবীণ আর্য জানান, দীপেশ চুরির আগে ছদ্মবেশ নিতেন। কখনো ফেরিওয়ালা সেজে পুলিশ লাইনের আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। পরিস্থিতি অনুকূলে পেলেই গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে পড়তেন।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দীপেশ স্বীকার করেছেন—তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই কেবল পুলিশ সদস্যদের বাড়িতে চুরি করতেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে আলিরাজপুরে এক পুলিশ সদস্যের হাতে মারধরের শিকার হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তার মনে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ জন্মায়।













































