প্রচ্ছদ জাতীয় স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কী কথা বলেছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির

স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কী কথা বলেছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে কারওয়ান বাজারে স্টার কাবাবের পেছনে হামলার এ ঘটনা ঘটে। তাকে হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন স্ত্রীসহ তিন সন্তান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে তার পরিবার।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলাটি করেন নিহত মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।

গণমাধ্যমকে মুসাব্বিরের স্ত্রী বলেন, ‘সন্ধ্যায় তিনি আমাকে বললেন তুমি একটা কফি বানিয়ে দাও, আমি নামাজ পড়ে বের হবো। ওইটাই শেষ কথা ছিল।’

তিনি যখন বাইরে যান প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া বাসায় ফোন দেন না বলেও উল্লেখ করেন মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। হত্যার বিচার দাবি করে সুরাইয়া বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ রয়েছে। এসব দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জরুরি পদক্ষেপ নেবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলছে। আগেও ঘটেছে, এখনো ঘটছে, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমার মতো অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’

সাতসকালে বোমা বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল একজনের
২০ বছর ধরে পানির ব্যবসা করে আসছিলেন মুসাব্বির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রথমে সরাসরি জড়িত থাকলেও রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর লোক দিয়ে এই ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ব্যবসা নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকার কথা নয়।’

এ সময় হত্যাকাণ্ডের কারণ জানেন না বলেও মন্তব্য করেন মুসাব্বিরের স্ত্রী।

পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। পরে এলাকার লোকজন উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে ফার্মগেট পার হয়ে কারওয়ান বাজারের উল্টোদিকে স্টার কাবাবের সামনে মোটরসাইকেল থেকে নেমে এসে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে মুসাব্বির ও আবু সুফিয়ান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

আবু সুফিয়ানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মো. জাবেদ কালবেলাকে বলেন, ‘আবু সুফিয়ান তেজগাঁও থানা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তার বাসা কেরানীগঞ্জে। রাত ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির, মাসুদসহ কয়েকজন স্টার কাবাবের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতে মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আহত আবু সুফিয়ানের পেটের বাম পাশে গুলি লেগেছে। জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, ‘স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বিরকে নিহত করা হয়েছে। তার লাশ বিআরবি হাসপাতালে আছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে কাজ চলছে।’