
সাবেক ডিবি প্রধান, ভারতে পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসর মনিরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী নীলফামারীর জেলা পুলিশ সুপার এস কে জাহিদুল কর্তৃক ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের নাটক মঞ্চস্থের মিডিয়া ট্রায়ালে তিনি এখন মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী, পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জামায়াত বলছে, ঠাকুরগাঁও জেলা আমির বেলাল আহমদ বুকে তীব্র চাপ অনুভব করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তার ইসিজি পরীক্ষা করা হলে হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে রেফার করা হয়।
বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, রোগীর কার্ডিয়াক সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো যাবে। বর্তমানে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হওয়ার পর তিনি এখন অনেকটা মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ নিয়ে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আমির বেলাল উদ্দিন ব্যবসায়িক কাজে নগদ টাকা নিয়ে বিমানযোগে তার এলাকায় যাচ্ছিলেন। কাস্টমসের অনাপত্তিতেও তাকে টাকা বহনের ছাড়পত্র দেয় ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেনস্তা করা হয়েছে। এমনকি তাকে নির্যাতন করেন নীলফামারীর জেলা পুলিশ সুপার এস কে জাহিদুল ইসলাম। এই নির্যাতনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, সেই সঙ্গে মিডিয়া ফ্রেমিং করে এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে, যার কারণে তিনি এখন প্রায় মৃত্যুমুখে পড়েছেন। আমরা গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল ভূমিকার পাশাপাশি মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে নাটকের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নীলফামারীর জেলা পুলিশ সুপার এস কে জাহিদুল ইসলাম ফ্যাসিবাদের দোসর। তিনি সাবেক ডিবি প্রধান, ভারতে পলাতক মনিরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। তিনি জঙ্গি নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা ও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে জামায়াতসহ দেশের সচেতন মহল।
এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, সোর্স ও ব্যবহারের বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতি যখন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, তখন কেউ কেউ দেশে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে। জামায়াতের জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে।









































