প্রচ্ছদ ধর্ম রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে নতুন তথ্য আরব আমিরাতের

রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে নতুন তথ্য আরব আমিরাতের

রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির জ্যোতির্বিদরা বলছেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসের চাঁদ দেখার চেষ্টা করবে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ। তবে ওই দিন আরব ও ইসলামী বিশ্বজুড়ে চাঁদ দেখা জ্যোতির্বিদ্যাগতভাবে অসম্ভব। ফলে যেসব দেশ চাঁদ দেখার জন্য নিশ্চিত প্রমাণের ওপর নির্ভর করে, তাদের দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরুর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব চাঁদ-দেখা মানদণ্ড অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদ সংযোগ থেকে অনেকটাই কম সরে থাকবে। ফলে এ সময়ে খালি চোখে, টেলিস্কোপে এমনকি উন্নত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ইমেজিং প্রযুক্তিতেও তা দেখা সম্ভব হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যোতির্বিদদের এই সিদ্ধান্ত একাধিক স্বীকৃত ও সমালোচনামূলকভাবে পর্যালোচিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে ইবনে তারিক, ফাদারিংহাম, মন্ডার, ব্রুইন, মোহাম্মদ ইলিয়াস, দক্ষিণ আফ্রিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি (এসএএও), ইয়ালপ ও ওদেহ পদ্ধতি রয়েছে। সব বিশ্লেষণেই বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরব অঞ্চল বা বৃহত্তর ইসলামি বিশ্বে কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।

এর ফলে যেসব দেশ চাঁদ দেখার ভিত্তিতে হিজরি মাস ঘোষণা করে, তারা বুধবার শাবানের ৩০ দিন পূর্ণ করবে। এছাড়া বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান শুরু হবে। তবে কিছু দেশ বিকল্প মানদণ্ড অনুসরণ করলে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রমজান শুরুর ঘোষণা দিতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও রিয়েল-টাইম ইমেজ প্রসেসিং ব্যবহার করেও মঙ্গলবার চাঁদ শনাক্ত করা সম্ভব হবে না। ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রির নিচে কখনো খালি চোখে এবং ৬ ডিগ্রির নিচে কখনো টেলিস্কোপে চাঁদ দেখার প্রমাণ নেই। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার বিকেলে বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটবে। এটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও অ্যান্টার্কটিকা থেকে দেখা যাবে এবং এশিয়ার বহু অঞ্চলে সূর্যাস্তের সঙ্গে মিলবে। সূর্যগ্রহণ নিজেই সূর্য ও চাঁদের সংযোগের দৃশ্যমান প্রমাণ। এটির ফলে চাঁদ দেখার অসম্ভবতাকে আরও নিশ্চিত হয়েছে।

জ্যোতির্বিদরা মঙ্গলবার ভুল চাঁদ দেখার দাবির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কারণ, ওই সময় পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহ দৃশ্যমান থাকবে, যা অতীতে চাঁদ ভেবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। এ সময়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও আফ্রিকার কিছু দেশে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরিস্থিতি অনেক বেশি অনুকূল থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পরিস্থিতি অনেক বেশি অনুকূলে থাকবে। এদিন আবুধাবিতে সূর্যাস্তের পর চাঁদ থাকবে ৫৮ মিনিট। এছাড়া মক্কায় ৫৯ মিনিট, আম্মান ও জেরুজালেমে ৬৫ মিনিট, কায়রোতে ৬৪ মিনিট এবং মরোক্কোর রাজধানী রাবাতে ৭৩ মিনিট থাকবে। এ সময়ে চাঁদের বয়স তখন হবে ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টার মধ্যে। এটি খালি চোখে চাঁদ দেখার জন্য যথেষ্ট অনুকূল। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে আরব বিশ্বের বড় অংশেই চাঁদ দেখা সম্ভব হবে।

জ্যোতির্বিদ ও ইসলামি আইনবিদরা বলছেন, যেখানে হিসাব অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগেই চাঁদ অস্ত যায়, সেখানে চাঁদ দেখার চেষ্টা করার কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। এই মতামত দ্বিতীয় আমিরাত জ্যোতির্বিদ সম্মেলনেও অনুমোদিত হয়েছে।

সৌদি আরবের শীর্ষ আলেম পরিষদের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ বিন মানিসহ বহু বিশিষ্ট আলেম দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, নিশ্চিত জ্যোতির্বিদ্যাগত জ্ঞানকে এ ধরনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এসব বিবেচনায় জ্যোতির্বিদদের মতে, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকেই রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সূত্র : কালবেলা