
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দল তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পরাজিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট। আর সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।
সারজিসের প্রাপ্ত এই ভোট মূলত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফসল। কারণ এ আসনে জামায়াতেরই ভোট রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজারের মতো। ভোটের এই সমীকরণ নিয়ে শুক্রবার পঞ্চগড় ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেসব কারণে তরুণ প্রজন্মের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক সারজিস আলমের পরাজয় হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে তার রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তির লড়াইয়ে ব্যর্থতা, নিজের সম্পর্কে মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, অতিকথন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান, স্বাধীনতার মুক্তাঞ্চল খ্যাত পঞ্চগড়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে জোটবেঁধে নির্বাচন করা ও বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা তারেক রহমান সম্পর্কে নেতিবাচক ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য প্রদান উল্লেখযোগ্য। এসব কারণে তরুণ এ নেতার ওপর সাধারণ লোকজন ছিল বিরক্ত।
যদিও সারজিস আলম ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা জুলাই বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় তরুণ প্রজন্মের কাছে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশেষ করে কোটাবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় সমন্বয়ক জনপ্রিয়তা পান ও নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন, যা বিশেষ করে তরুণদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
এরপর তিনি সরাসরি জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পর তিনি স্বকীয়তা ধরে রাখতে পারেননি। তার উজ্জ্বল নেতৃত্বে যেখানে এলাকার অসংখ্য মানুষ সমাজ সংস্কার তথা সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, সুসংগঠিত হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিল, সেখানে সবাইকে হতাশ করে দিয়ে তিনি একটি বিশেষ দলের সঙ্গে জোটবেঁধে নির্বাচনে অংশ নেন। যে দলটির স্বাধীনতাযুদ্ধে অবস্থান ছিল বিতর্কিত। আর বিগত ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের অগ্রণী সেনা সারজিস আলমের মতো এমন এক ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট বাঁধায় সচেতন দেশপ্রেমিক মানুষ দারুণভাবে হতাশ হয়ে পড়েছিল। যার প্রভাবে ভোটে তার পরাজয় হয়।
অন্যদিকে গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে এসে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সুসংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন নওশাদ জমির। ঘরে ঘরে গিয়ে জনসংযোগ, সংযত ভাষা ও পরিমিত রাজনীতিক আচরণ তাকে নিয়ে যায় এক অনন্য উচ্চতায়। এক্ষেত্রে তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাবা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার ৩ বারের সাবেক মন্ত্রী, স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এলাকাবাসীর কাছে জমিরউদ্দীন সরকারের উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে চাকরি দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টি ভোটের সমীকরণে বিরাট অবদান রেখেছে। এখনো এলাকায় তার অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্রে স্মরণ করা হয়।











































