
রাজধানীর তেজতুরি বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে পেশাদার ও ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোর তৎপরতা শুরু করেছে।
গত বুধবার রাতে পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে খুনিরা পরিকল্পিতভাবে এলাকাটি রেকি করে মিশন সম্পন্ন করার পর কারওয়ান বাজারের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তেজগাঁও থানায় পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান যে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ, ডিবি এবং র্যাবের একাধিক বিশেষ ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। খুনের মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তারা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজির মতো সম্ভাব্য সকল কারণ খতিয়ে দেখছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই মামলার তদন্ত চালানো হচ্ছে।
নিহত মুসাব্বিরের স্ত্রী দাবি করেছেন যে রাজনৈতিক কারণে তাকে আগে থেকেই হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অভিযোগ—আসন্ন কমিটিতে শীর্ষ পদ পাওয়ার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন যে কোনো ষড়যন্ত্রই তাদের দমাতে পারবে না এবং রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করবেন।







































