
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেরিয়ে যাওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন কি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে? এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর রহমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ডা.জাহেদ তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল ‘জাহেদ টেক’ এ বিশ্লেষণে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ-উর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনকে বিএনপি জোটে নেওয়ার বাস্তব কোনো প্রয়োজন বা রাজনৈতিক সুবিধা বিএনপির নেই। বরং এমন সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য উল্টো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিজস্ব মুসলিম ভোটব্যাংক রয়েছে। ফলে নতুন করে একটি উচ্চস্বরে শরিয়া শাসনের পক্ষে থাকা দলকে জোটে যুক্ত করলে বিএনপির নতুন কোনো ভোট যোগ হবে না।
জাহেদ-উর রহমান আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে প্রকাশ্যে শরিয়া কায়েমের দাবি জোরালো করেছে, তাতে বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপিকে ধর্মীয় চরমপন্থার সঙ্গে ট্যাগ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।
তিনি মনে করেন, ইসলামী আন্দোলন জোটের বাইরে থেকে এককভাবে নির্বাচন করলে সেটি বরং বিএনপির জন্য ‘কমফর্টেবল’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কারণ এতে ইসলামী ভোট বিভক্ত হবে এবং জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
২০০১ সালের ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা আর বর্তমান পরিস্থিতি এক নয়। ফলে সেই মডেল হুবহু পুনরাবৃত্তি করা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে এখন সহজ হবে না।
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে বড় সাফল্য পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। সে কারণে দলটি ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো কৌশলগত জোট নিয়ে ভাবতে পারে, যদিও বিএনপির সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা তিনি খুবই কম বলে মনে করেন।
সব মিলিয়ে, বিএনপি জোটে ইসলামী আন্দোলনের যোগ দেওয়া নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে তিনি বাস্তবতার চেয়ে বেশি ‘রাজনৈতিক গুঞ্জন’ বলেই আখ্যা দেন।









































