
বিএনপির তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। আপিল বিভাগের আদেশের ফলে ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনে এই তিন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো আইনগত বাধা রইল না।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত শুনানির জন্য এই দিন ধার্য করেন।
তিনটি লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার শাহ নেওয়াজ। শুনানি শেষে শাহ নেওয়াজ জানান, আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এসব আবেদনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম–এর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি রিট করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে ৫ ফেব্রুয়ারি লিভ টু আপিল করা হলেও আপিল বিভাগের আদেশে এই বিষয়ে শুনানি নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে নির্বাচনে কাইয়ুমের অংশগ্রহণে কোনো বাধা থাকছে না।
কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ–এর প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেন। তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কমিশন আবেদন খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন, যা খারিজ হয়। পরে করা লিভ টু আপিলও মঙ্গলবার খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
অন্যদিকে বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম–এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়। পরে সেসব আপিল প্রত্যাহার করা হয়। এরপর জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন হাইকোর্টে রিট করলে সেটিও খারিজ হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
ফলে আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।











































