
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণার দিনেই নবম জাতীয় পে-স্কেল গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই নিছক দাবি আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তবে সরকারি কর্মচারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশমুখে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের নেতারা বলছেন, এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কর্মসূচি এবং পে-স্কেল গেজেট প্রকাশই তাদের একমাত্র দাবি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সরকারি দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, সময় ও কৌশল বিবেচনায় এই কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ।
বিশেষ করে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণার দিন একই সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী কেন্দ্রের সামনে এমন কর্মসূচি কাকতালীয় নয় বলে মত তাদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি,পে-স্কেলের দাবিকে সামনে রেখে একটি মহল আসলে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে শক্তিশালী করার পরিবেশ তৈরি করছে।
বিএনপির নেতারা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি থাকতে পারে, কিন্তু বিএনপির ইশতেহারের দিনে ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে যাত্রা স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক বার্তা। এতে কারা লাভবান হচ্ছে, সেটি বুঝতে কারও বাকি থাকে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের কর্মসূচি নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে, যার লক্ষ্য হতে পারে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত বা বানচাল করা।
যখন সরকারি কর্মচারীরা সরাসরি যমুনার সামনে অবস্থান নেয় এবং পুলিশি বাধা অমান্য করে, তখন সেটি আর শুধু চাকরিসংক্রান্ত দাবি থাকে না। এটি নির্বাচনকালীন রাজনীতিতে একটি বড় চাপ সৃষ্টি করে। এদিকে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
সব মিলিয়ে, পে-স্কেল গেজেটের দাবিতে এই আন্দোলন কার স্বার্থ রক্ষা করছে এবং এর মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করার কোনো সুপরিকল্পিত চেষ্টা আছে কি না- সেই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে।










































