প্রচ্ছদ জাতীয় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন সর্বমিত্র

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন সর্বমিত্র

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েও সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, “শিক্ষার্থীরা চাচ্ছেন না আমি পদত্যাগ করি। তারা বলছেন, এভাবে পদত্যাগ করা গণবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত হবে এবং এটা তাদের সঙ্গে প্রতারণা। শিক্ষার্থীরা আমাকে বিরোধী পক্ষের কথায় কান না দিয়ে কাজ করতে বলেছেন। তাই আমি আমার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি।”

তিনি আরও বলেন, “ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও পদত্যাগের বিষয়ে সাপোর্ট করে না।”

তবে গঠনতন্ত্রের কোন ধারায় এমন বলা হয়েছে—জানতে চাইলে সর্বমিত্র চাকমা বলেন, “পদত্যাগের বিষয়ে কোন কোন ধারা আছে, আমার জানা নাই।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ১২-এর খ ধারায় বলা হয়েছে, “কার্যনির্বাহী কমিটির কোনও সদস্য বা কোনও পদাধিকারী পদত্যাগ করলে, মৃত্যুবরণ করলে অথবা পদ থেকে অপসারিত হলে, তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য এখানে নির্ধারিত প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে শূন্য পদটি পূরণ করা হবে।”

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে সর্বমিত্র চাকমা বলেছিলেন, “আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল আছি। আমার কিছু কাজ পেন্ডিং রয়েছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী দুইদিন পর পদত্যাগ করবো।” তবে, দুদিন বাদেই তিনি জানালেন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা।

উল্লেখ্য, গতবছর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন সর্বমিত্র চাকমা। একের পর এক ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে গত সোমবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি।

গত নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের সময় গভীর রাতে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানোর অভিযোগ ওঠে সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ক্যাম্পাসে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ নিয়ে ছাত্রদল ও বাগছাসের (বর্তমান জাতীয় ছাত্রশক্তি) সঙ্গে বিবাদে জড়ান তিনি।

সবশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বমিত্র এক হাতে স্টাম্প নিয়ে কয়েকজন শিশুকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। কেউ কান না ধরলে স্টাম্প হাতে শাসাতে দেখা যায় তাকে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়েন ডাকসুর এই নেতা।

এরপর সোমবার দুপুরে ফেসবুক পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, “আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনও মানে নেই।”

তিনি আরও লেখেন, “সময়টা ছিল গত মাসে। সে সময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়। আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে, এ কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।

সর্বমিত্র বলেন,“আমার ভাবনায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু আইন তো আইনই। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও নিরাপত্তা বিধানে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে। এতে আমার ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক অবস্থা বিষিয়ে উঠেছে। আমার আর কন্টিনিউ করার সক্ষমতা নেই।”

শিশু-কিশোরদের কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকজ করার কথা জানান প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ। তিনি সোমবার বলেন, “ওর কাছে আমরা ব্যাখ্যা চেয়েছি। ব্যাখ্যা দিক, তারপর।”

এ ঘটনায় ছাত্রদল ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। এ সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রক্টর। তবে দুইদিন পার হলেও কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

বুধবার সকালে সাইফুদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, “সর্বমিত্র চাকমা এতদিন বাইরে ছিলেন। আমরা তার কাছে শোকজ নোটিশ পৌঁছাতে পারিনি। গতকাল আমরা তাকে অনলাইনে পাঠিয়েছি। এখন তিনি কী জবাব দেন দেখি।”

সেদিন শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বমিত্র চাকমা বলেছিলেন, “আমার কাছে শোকজ লেটার এসেছে। তবে এ ব্যাপারে আমি জবাব দেব না। আগে আমাকে শিক্ষার্থীদের ফোন চুরি, সাইকেল চুরি, নারী শিক্ষার্থীরা হেনস্তার ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে। তখন আমি পদে থাকব কিনা জানি না। তবে আমি এসবের জবাব চাইবো। তখন আমি ডাকসুর পদে নাও থাকতে পারি।”

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন