প্রচ্ছদ জাতীয় নির্বাচনের মাঠে বড় ক্ষমতা পাচ্ছে সেনাবাহিনী

নির্বাচনের মাঠে বড় ক্ষমতা পাচ্ছে সেনাবাহিনী

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী শুধু ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে নয়, বরং অন্যান্য বাহিনীর মতোই পূর্ণ ক্ষমতায় দায়িত্ব পালন করবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধন করে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা পাস হলে সেনাবাহিনী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

নতুন ক্ষমতা ও কারণ

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের মতে, আরপিও সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আগে এই সংজ্ঞায় শুধু পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বিজিবি ছিল। এই সংশোধনের ফলে, ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল না হয়েই সেনাবাহিনী সরাসরি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা পাবে এবং স্বাধীনভাবে গ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে। ইসি মনে করছে, এতে ভোটারদের মনে আস্থা ফিরে আসবে।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সেনাবাহিনীকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সেই বিধান বাতিল করে দেয়। এবার নির্বাচন কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে এই ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে, যা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেছেন, এই সংশোধনী কার্যকর হলে ইসি সরাসরি সেনা সদর দপ্তরের কাছে সাহায্য চাইতে পারবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সেনাবাহিনী কাজ করতে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদও মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা থাকা জরুরি, কারণ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে সেনাবাহিনী নিয়োগের বিষয়টি আর সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, বরং এটি একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আসবে। এর ফলে নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী অন্যান্য বাহিনীর মতোই সব ধরনের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।