
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত, আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে জাতিসংঘ। তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে সংস্থাটিকে। তবুও বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কোনো একক শক্তি বা দেশ একা বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে যে ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতিসংঘ পরিচালিত হয়েছে, তা বর্তমানে আর যথেষ্ট নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও মূল্যভিত্তিক বহুপাক্ষিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
এর মধ্যেই আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশন (পিসিবি)-এর সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পিসিবির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ব্যুরোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় মরক্কো সভাপতি এবং বাংলাদেশ, জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়।
জাতিসংঘের বিভিন্ন পরিষদে অবদান রাখা দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে এই শান্তি বিনির্মাণ কমিশন গঠিত। সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব এই কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকে।
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আস্থা রাখার জন্য কমিশনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টা, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ এই কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছে দেশটি।











































