
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আটক প্রেমিকা বর্ষা পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে দিয়েছেন ভয়ঙ্কর বর্ণনা, যা অনেকটাই মিলে যাচ্ছে বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে।
পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের ভবনে গত রবিবার বিকেলে খুন হন জুবায়েদ। হত্যার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর বংশাল থানা পুলিশ আটক করে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বার্জি শাবনাম বর্ষাকে, যিনি জুবায়েদের কাছে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়তেন।
পুলিশ জানায়, বর্ষার দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক ছিল মাহির নামে এক যুবকের সঙ্গে। কিন্তু জুবায়েদের কাছ থেকে পড়ার সময় বর্ষা তার প্রেমে পড়ে যান। ফলে পুরনো প্রেমিক মাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়, আর সেখান থেকেই শুরু হয় প্রতিশোধের পরিকল্পনা।
জবানবন্দিতে বর্ষা বলেন, “আমি মাহিরকে বলেছিলাম, জুবায়েদকে সরাতে না পারলে আমি তোমার হতে পারব না।”
এই কথার পর থেকেই হত্যার নীলনকশা তৈরি হয়। তদন্তে জানা গেছে, বর্ষা, তার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমান, ফারদিন আহমেদ এবং আইলান—এই চারজন মিলে খুনের পরিকল্পনা করেন।
গত ১৯ অক্টোবর টিউশনের অজুহাতে বর্ষা জুবায়েদকে তার বাসায় ডেকে আনেন। সেই সময় বাইরে থেকে ওঁত পেতে ছিল মাহির ও তার সহযোগীরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মাহির ছুরি দিয়ে জুবায়েদের উপর আঘাত করেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় জুবায়েদ দোতলায় ছুটে গিয়ে সাহায্য চাইলে কেউ সাড়া দেয়নি। পরে তিনি তিনতলায় উঠে যান। সেখানে উপস্থিত ছিল বর্ষা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি মৌলিক আহসানউদ্দিন সামী বলেন, “জুবায়েদ তখনও জীবিত ছিলেন। তিনি বর্ষাকে বলেন, ‘আমাকে বাঁচাও।’ কিন্তু বর্ষা জবাব দেন, ‘তুমি না মরলে আমি মাহিরের হতে পারব না।’ এরপরই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।”
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমের প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো কাহিনিটি অনেকটা বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মতোই—যেখানে প্রেম ও প্রতিশোধের কেন্দ্রে ছিলেন মিন্নি।











































